এই সময়ের ছড়া

পাণ্ডুলিপি পুরস্কার

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২১, ২০:১৬

মোহাম্মদ কামরুজ্জামান

 

পাণ্ডুলিপি পাঠিয়েছিলাম পুরস্কারের আশায়,

হঠাত্ দেখি সেই পুরস্কার চলে এলো বাসায়—

চিঠি নিয়ে হাজির হলো স্বয়ং প্রকাশক।

অবাক হলাম—আমার বাসায় অত বড় লোক!

সনদ দেবে, টাকা দেবে, আরো দেবে ক্রেস্ট—

জুরি বোর্ডের মতে নাকি আমার লেখাই বেস্ট।

 

এখন তবে পাণ্ডুলিপি ছাপিয়ে দিতে তার

আপত্তি নেই—নইলে কেন দিল পুরস্কার?

ভেবে ভেবে আপন মনে বেজায় খুশি হই,

পাণ্ডুলিপি ছাপালে তো সেটাই হবে বই।

এই রকমই চেয়েছিলাম—ফন্দি ছিল ওটা,

বিনে টাকায় বই ছাপাব অনেক মোটা মোটা।

 

আমি চলি ডালে ডালে ওরা পাতায় পাতায়

আমার চেয়েও বুদ্ধি বেশি রাখে ওরা মাথায়।

এওয়ার্ড নিয়ে কয়েকটা মাস করল কত ঘটা,

মঞ্চে তুলে ক্রেস্ট দিল সে তুলল ছবি ক-টা।

পোস্টও দিল ফেসবুকে সে ম্যাসেঞ্জারে সবার,

ছবির সাথে ভারী বইয়ের লেমিনেটেড কভার।

 

টোপ ফেলে সে দেখল আমার মনে কত বল,

এওয়ার্ড ফেওয়ার্ড—ও কিছু না, টাকা নেওয়ার ছল!

দেইনি টাকা, দেইনি সে বই কেনার নিশ্চয়তা,

বই ছাপাবে হাওয়ার উপর—এটা কোনো কথা?

 

বই হলো না ছাপা আমার—তাতেই গেছে বয়ে!

থাকল নাহয় পাণ্ডুলিপি পাণ্ডুলিপিই হয়ে।

এই ক-টা মাস পুলক মনে দিয়েছিল নাড়া—

সেটাই আমার কম কী পাওয়া পয়সাপাতি ছাড়া?