তমাল তরুন দাশ, দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) সংবাদদাতা
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য তৈদু ঝরনা ঘিরে আগ্রহ বাড়ছে পর্যটকদের। ঝরনা ও এর আশপাশ দেখে মনে হয় শিল্পীর তুলিতে আঁকা। ঝরনা, ছড়া, জলপ্রপাত মিলেমিশে একাকার। নির্জন পাহাড়ে প্রকৃতির মেয়ে তৈদু ঝরনা তরঙ্গে নেচেগেয়ে যেন অবিরাম বইছে। যেখানে প্রতিদিন নাম জানা-অজানা পোকা-মাকড়, বন্য পশুপাখির আসর বসে। সেখানে পা রাখতেই শীতল হাওয়া আর ঠান্ডা পানিতে শরীর মন সবই বদলে যায়। দীঘিনালা উপজেলার দুর্গম অঞ্চলে অবস্থিত এই তৈদু ঝরণা। দুর্গম পাহাড়ে প্রকৃতির খুব কাছে বলে ছুটে আসছেন ভ্রমণপিপাসুরা।
পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নতুন ঠিকানা তৈদু ঝরণা। এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে বদলে যাবে ঐ এলাকার দৃশ্যপট। অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যাবে। জেলা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে দীঘিনালা উপজেলার জামতলি পোমাংপাড়া হয়ে সাত কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তৈদু ঝরনা। পাহাড়ি আঁকা-বাঁকা, উঁচু-নিচু মেঠো পথ পেরিয়ে সাধারণ যে কেউ সেখানে যেতে পারে না। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ঝরনার সঙ্গে পরিচিত থাকলেও-এর রূপবৈচিত্রের বিশালতা সম্পর্কে ভাবিনি। ঝরনার আরেক আকর্ষণ কিছু দূরেই অবস্থিত প্রাকৃতিক জলপ্রপাত। স্থানীয়দের ভাষায় তৈদু অর্থ পানির জানালা।
দীঘিনালা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অনুপ চন্দ্র দাশ বলেন, ‘যারা দেখেননি কানাডার জলপ্রপাত কিংবা দেশের অন্যান্য পাহাড়ি ঝরনা, তাদের কাছে তৈদু ঝরনা খবই আকর্ষণীয় হতে পারে। সবুজ বনঘেরা বিশাল পাথরের পাহাড় চিড়ে ঝরছে তৈদু ঝরনা। কিছু দূরেই প্রাকৃতিক জলপ্রপাতের মতো দেখতে জলপ্রবাহ। এ ঝরনাকে ঘিরে পাশে রয়েছে আরো তিনটি তুলনামূলক ছোট ঝরনা এবং একটি বড় ও আরেকটি মনোমুগ্ধকর জলপ্রপাত। সব মিলিয়ে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা নিয়ে আকর্ষণীয় এক পর্যটন স্পট।’ তিনি আরো বলেন, ‘দুর্গম এলাকায় যাতায়াতের সুবিধা না থাকায় এ স্থানটিতে স্থানীয়রাও চাইলেও যেতে পারতেন না। তবে সম্প্রতি দেশের দূর এলাকার পর্যটকদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে এটি।’
১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রহমান কবীর রতন বলেন, ‘পর্যটকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দরখাস্ত পাঠানো হয়েছে। পর্যটকদের যাতে অসুবিধা না হয় এবং ভবিষ্যতে তৈদু ঝরনার সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য রাস্তঘাট থেকে শুরু করে সব ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়া হবে।’
দীঘিনালা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কাশেম বলেন, ‘তৈদু ঝরনাটি প্রকৃতির গড়া। পর্যটকের আসা-যাওয়ার সুবিধার জন্য রাস্তা করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ঝরনাটি যাতে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয় তার জন্য সব ব্যবস্থা করা হবে।’ দীঘিনালা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উল্লাহ বলেন, ‘জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে এ ব্যাপারে আলাপ হয়েছে। ভবিষ্যতে এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে রাস্তাঘাট করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে। পর্যটনের সম্ভাবনা থাকায় এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা সুন্দর করার চিন্তা করা হচ্ছে।’
