সোনারগাঁওয়ে ২০ গ্রামের মানুষের চলাচলে ভরসা বাঁশের সাঁকো
অসিত কুমার দাস, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ)
সোনারগাঁওয়ের জামপুর ও নোয়াগাঁও—এ দুই ইউনিয়নের মাঝে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর নেই সেতু, আছে বাঁশের সাঁকো। এই সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয় এলাকাবাসী। ঝালোকান্দি-গোবিন্দপুর গ্রামের মধ্যবর্তী এই স্থানে সেতু না হওয়ায় দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সহযোগিতায় ৩০ বছর ধরে নির্মাণ করা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করছে কয়েক হাজার মানুষ। এলাকাবাসী জানায়, সেতু না থাকায় উপজেলার জামপুর ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ২০টি গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ চরমে।
স্থানীয়রা বলেন, ‘একটি সেতুর জন্য অনেকবার মানববন্ধন করা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি। তার পরও সেতু নির্মাণ হচ্ছে না।’ তারা আরো বলেন, যাতায়াতের মাধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো হওয়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নারী, শিশু, অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের। একই কারণে অনেক সময় রোগী ও গর্ভবতী নারীদের আধাঘণ্টার পথ বাধ্য হয়ে পাঁচ কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে অর্থ ও সময় ব্যয় করে ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়।
সাঁকোর পাশেই রয়েছে দুটি মাদ্রাসা ও এতিমখানা, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঈদগাহ। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকো পারাপারে আতঙ্কের মধ্যে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীরা। এলাকাবাসী অতিদ্রুত উল্লিখিত স্থানে সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষের কাছে।
লাধুরচর গ্রামের বাসিন্দা ছালাউদ্দীন বলেন, ‘ভোটের আগে প্রার্থীরা এখানে সেতু নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন । তারপর খোঁজ নেন না।’ নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউসুফ দেওয়ান জানান, ‘এই সেতুর জন্য আমি আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপিসহ মন্ত্রণালয়েও জানানো হয়েছে।’ জামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হা-মীম শিকদার শিপলু বলেন, ‘এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ঐ স্থানে সেতু নির্মাণ খুবই জরুরি। সেতুটির ব্যাপারে এমপিও অবগত আছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে আবারও কথা বলব।’ উপজেলা প্রকৌশলী মো. আরজুরুল হক বলেন, যেখানে সেতু প্রয়োজন, পর্যায়ক্রমে সবখানেই নির্মাণ করা হবে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের এই সাঁকো সম্পর্কে তার জানা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম স্থানীয়দের লিখিতভাবে বিষয়টি জানাতে পরামর্শ দেন। তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
