আসন বদল মমতার, তৃণমূলের প্রার্থী ১৫ তারকা, কমেছে মুসলিম প্রার্থী

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২১, ২২:৩০

প্রত্যাশা মতোই আসন বদল করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম আসন থেকেই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে লড়বেন। তার দুই বারের জেতা আসন কলকাতার ভবানীপুরে লড়বেন মমতার মন্ত্রিসভারই এক মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচনে ২৯১ আসনে লড়বে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি তিন আসনে তাদের সহযোগী দল গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। তৃণমূলের তালিকায় গ্ল্যামারেরও ছড়াছড়ি। রয়েছেন ১৫ তারকা প্রার্থী। তবে কমেছে মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা। বাদ পড়েছেন পাঁচ মন্ত্রী। অন্যদিকে, সিপিএম নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত মোর্চায় তরুণ প্রার্থীদের সংখ্যা বেশি। তারা প্রথম দুই দফার ভোটের জন্য ৬০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এদিকে বিজেপির মন্তব্য—‘হারার ভয়ে কলকাতার ভবানীপুর ছেড়ে নন্দীগ্রাম পালাচ্ছেন মমতা’।

গতকাল শুক্রবার কলকাতার কালীঘাটে নিজের বাড়ি থেকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন মমতা ব্যানার্জি। সেই তালিকায় আগে জেতা অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী, ব্রাত্য বসু, গায়ক ইন্দ্রনীল সেন ছাড়াও টালিউডের তারকা সোহম চক্রবর্তী, কাঞ্চন মল্লিক,         লাভলী মৈত্র, জুন মালিয়া, সায়ন্তিকা ব্যানার্জি, সায়নি ঘোষ, কৌশনি মুখার্জি, পরিচালক রাজ চক্রবর্তী, গায়িকা অদিতি মুন্সি, সাঁওতালি চলচ্চিত্রের নায়িকা বিরবাহা হাঁসদা জায়গা পেয়েছেন। এছাড়াও সাবেক ফুটবলার বিদেশ বোস, সাবেক ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি রয়েছেন। বাদ পড়েছেন ২৭ এমএলএ। এর মধ্যে পাঁচ মন্ত্রী, অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়ও রয়েছেন। তালিকায় মহিলা প্রার্থী ৫০ জন। মমতা বলেছেন, ৮০ বছরের বেশি বয়সিদের এবার মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে না। যে মন্ত্রীদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তাদের বিধান পরিষদে (সংরক্ষিত আসন) নির্বাচিত করা হবে।

প্রার্থী হতে না পারায় বেশ কয়েক জন ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এরই মধ্যে দল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিদায়ী দুই এমএলএ দীনেশ বাজাজ এবং মঈনুদ্দিন সামস। ভাঙ্গরের সাবেক এমএলএ আরাবুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের পার্টি অফিস ভেঙেছেন। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন। ক্ষুব্ধ বাঁকুড়ার বিধায়ক সম্পা দরিপা।

উল্লেখ্য, নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মমতার সাবেক ছায়া সঙ্গী শুভেন্দু অধিকারীর। এদিন প্রার্থী ঘোষণার সময় মমতা কলকাতার টালিগঞ্জ কেন্দ্রে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নাম ঘোষণা করেন। তার পরই বলেন, ‘আমিও দাঁড়াতে পারি।’ কেন তিনি এমন বললেন তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা।

বিজেপি নেতা ও দলের মুখপাত্র সমিক ভট্টাচার্য্য বলেছেন, ‘মমতা ব্যানার্জি মুসলিমদের কথা ভাবেন বলে প্রচার করেন। তাহলে মুসলিম প্রার্থী কমিয়ে দিলেন কেন? ২০১৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূলের ৫৭ জন মুসলিম প্রার্থী ছিলেন। এবার তা কমিয়ে ৪২ করা হয়েছে।’

এদিকে, সিপিএমের নেতৃত্বে সংযুক্ত মোর্চা ৬০ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এই জোটে সিপিএমের নেতৃত্বে থাকা বামফ্রন্ট ছাড়াও জাতীয় কংগ্রেস এবং মুসলিম ও দলিতদের দল ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট রয়েছে। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানান, কয়েক দিনের মধ্যে বাকি আসনে প্রার্থী ঘোষণা হবে। অগ্রাধিকার পাচ্ছে তরুণ প্রার্থী।