বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এ সময় মালিক পক্ষ শ্রমিকদের অবরোধ বন্ধ ও শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও নিরাপত্তা কর্মীদের উপর হামলা চালায়। হামলায় দুই কর্মী গুরুতর আহত হন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় নিরাপত্তা কর্মী (আনসার সদস্য) মো. রাসেল মিয়াকে (৩৫) কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। শুক্রবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গোড়াই শিল্পাঞ্চলের নাহিদ কটন মিলে এ ঘটনা ঘটেছে।
আরো পড়ুন: একসঙ্গে পাঁচ সন্তান জন্ম দিলেন ১৯ বছরের তরুণী
কারখানার শ্রমিকরা জানান, বেতন ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে তাদের এ আন্দোলন। শ্রমিকদের মধ্যে রেহানা বেগম, আলামিন মিয়া ও মজনু মিয়াসহ অনেকেই অভিযোগ করেন, গার্মেন্টসে বেতন ভাতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হলেও নাহিদ কটন মিলের শ্রমিকদের মালিক পক্ষ কোন বেতন ভাতা বৃদ্ধি করেনি এবং কোন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়নি। এখন তাদের দাবি হচ্ছে, পোশাক শ্রমিকদের মত তাদের বেতন ভাতা বৃদ্ধি, বেতন প্রতি মাসের (১-৭) তারিখের মধ্যে পরিশোধ, ওভার টাইম প্রদান ও সরকারি বিভিন্ন ছুটি প্রদান।
এ ব্যাপারে নাহিদ কটন মিলের ম্যানেজার এডমিন মো. মোস্তাকিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারী সিদ্ধান্তে বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে পোশাক করখানার কর্মীদের। নাহিদ কটন মিল পোশাক করাখানা নয়। নাহিদ কটন মিলে তুলা থেকে সুতা উৎপাদন হয়। শ্রমিকদের দাবির প্রেক্ষিতে মালিক পক্ষ বেতন ভাতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা আলোচনার মাধ্যমে দেওয়া হবে বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, কতিপয় শ্রমিক কর্মচারী মিলের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার জন্য অন্যায়ভাবে অবরোধ করে হামলা, ভাঙচুর ও রাস্তা অবরোধ করে মিলের ক্ষয়ক্ষতি করেছে।
এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। মালিক পক্ষ ও শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা তা মেনে নিয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন।মিলের সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
ইত্তেফাক/জেডএইচ
