খাগড়াছড়ির রামগড়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের মেধাবী ছাত্র নাইমুল হাসান মিশন। শনিবার সকালে স্বজনরা দরজা ভেঙে ঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন। এ সময় তার লেখা একটি সুইসাইড নোট খুঁজে পান স্বজনরা। মিশন রামগড় পৌরসভার ফেনীরকুল এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল কামালের বড় ছেলে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা শেষে বাড়ি ফেরার পর খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন মিশন। শনিবার ভোরে ফজরের নামাজ পড়ার জন্য তার মা তাকে ডাকাডাকি করেন। পরে ছোট ভাই লিমন এসে পুনরায় ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে ঘরের জানালা দিয়ে দেখতে পায় মিশন গলায় গামছা বাঁধা অবস্থায় সিলিংয়ের সঙ্গে ঝুলে আছে। লিমনের চিত্কারে পরিবারের লোকজন এসে দরজা ভেঙে মিশনের মরদেহ উদ্ধার করে।
মিশন তার সুইসাইড নোটে লিখে যান, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। আমার জন্য কেউ কখনো কষ্ট পেয়ে থাকলে মাফ করে দিয়েন। লিমনের খেয়াল রাখবেন। আব্বু আমাকে সফল করার জন্য অনেক কিছু সহ্য করেছেন। আমি সফল হতে পারিনি। তাই আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এ দুনিয়া আমার জন্য না। সবাই পারলে আমাকে মাফ করে দিবেন—বিদায়।’
পরিবারের লোকজন জানান, মিশন কিছুটা বিষণ্নতা ও হতাশায় ভুগছিলেন। মিশন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি এবং এইচএসসিতে তিনি জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। তিনি ঐ বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।
মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও মিশনের মৃত্যুর ঘটনাটি ভাইরাল হয়। রামগড় থানার ওসি (তদন্ত) জানান, এ ব্যাপারে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
