সারা দেশে সাধারণ পাঠাগার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিন

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২১, ২১:৪৫

বাংলাদেশ সম্প্রতি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃতি পেয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তী পঞ্চাশ বছরে দেশের অনেক ইতিবাচক পরিবর্তনের ফলেই দেশ এই পর্যায়ে আসতে পেরেছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। কিন্তু নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় সব উন্নয়নকেই অর্থহীন করে তুলবে। আমাদের ভবিষ্যত্ প্রজন্মের মেধা বিকাশের ক্ষেত্রে মূল্যবোধহীন সমাজব্যবস্থা এক বড় ধরনের বাধা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সদ্ব্যবহারের পরিবর্তে অপব্যবহারের প্রবণতাই বেশি! তাই আমাদের সচেতন হতে হবে। এক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্রিয়া হিসেবে এলাকাভিত্তিক সাধারণ পাঠাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মূল্যবোধের যে অবক্ষয় দেখা দিয়েছে, সেখান থেকে তাদের লাইব্রেরিতে ফিরিয়ে আনা খুব কঠিন কাজ হলেও এছাড়া আর উপায় নেই। ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে তরুণদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করা গেলে একজন দুজন করে হলেও ধীরে ধীরে এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণরা এখানে আসতে শুরু করবে। এভাবেই ধীরে ধীরে তারা অপসংস্কৃতির কবল থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি থাকা অপরিহার্য হলেও দেশের বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই মানসম্মত লাইব্রেরি নেই। আর থাকলেও শিক্ষার্থীরা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারছে না বা লাইব্রেরির গুরুত্ব সম্পর্কেও তাদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টির কোনো চেষ্টা নেই। কাজেই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত ও কার্যকর লাইব্রেরির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় সাধারণ লাইব্রেরি এবং সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে হবে। নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন ছাড়া দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নতি নিশ্চিত করা যাবে না। আশা করি, প্রতিটি এলাকায় সরকারি উদ্যোগে সাধারণ পাঠাগার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সবাই বিবেচনা করবেন।

বিপ্লব বিশ্বাস, গোয়ালচামট, ফরিদপুর