ওরা নাস্তা ফেরিওয়ালা

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২১, ০০:৩৬

আব্দুর রহমান আরমান, কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা

সবাই যখন ঘুমে বিভোর। ওরা তখন লোহার ফ্রেমে কাঠের তৈরি চার চাকার ছোট ঠেলাগাড়ি নিয়ে ছোটে শহর থেকে মেঠো পথে। ওরা সকালের নাস্তা ফেরিওয়ালা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওরা পথেঘাটে পরোটা আর হালুয়া ফেরি করে বিক্রি করে। আর এই স্বল্প সময়ের স্বল্প আয়েই চলে ওদের সংসার। এদের ক্রেতা মূলত শ্রমজীবীরা। কেউ খুব ভোরে নির্ধারিত কর্মস্থলের উদ্দেশে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন। কেউ বা ছোটেন কাজের সন্ধানে। তাই সকালের নাস্তা করার সুযোগ হয় না। সুযোগমতো কিংবা কাজের ফাঁকে কোনো এক সময় সেই নাস্তার ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে পরোটা আর হালুয়া কিনে নাস্তা করে নেন তারা। কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে নতুন ব্যাংকের মোড়ে কথা হয় তেমনি এক নাস্তা ফেরিওয়ালা বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, পৌর এলাকার মুনশুরপুর গ্রামের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন তারা সাত জন। ভোরের আলো না ফুটতেই তারা পরোটা ও সুজির হালুয়া তৈরির কাজ শেষ করেন। মানুষের ঘুম ভাঙার আগে তারা নিজেদের ঠেলাগাড়ি নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়েন। সাত জন কালীগঞ্জ পৌর এলাকার সাত পয়েন্টে চলে যান।

এ সব নাস্তা ফেরিওয়ালাদের দুই ক্রেতা পৌর এলাকার ভাদর্ত্তী গ্রামের শহিদুল সরকার ও নান্নু মিয়া। তারা জানান, নাস্তা ছাড়াই কাজের জন্য খুব ভোরে বাড়ি থেকে বেরুতে হয়। এ সব ফেরিওয়ালার কাছেই খুব কম খরচে নাস্তা সেরে নেন তারা। এতে অর্থ এবং সময় দুই-ই বাঁচে। খাবারের মানেও সন্তোষ প্রকাশ করেন এ দুই জন। একই কথা বললেন পৌর এলাকার খঞ্জনা গ্রামের সাদেকুর রহমান দুদু ও আশরাফুল ইসলাম সুরুজ খান। তারাও ফেরিওয়ালাদের কাছ থেকে নিয়মিত সকালের নাস্তা সারেন। তবে তারা অর্থ-সময় না বাঁচালেও মূলত স্বাদের কারণেই নিয়মিত শাহী পরোটা ও সুজির হালুয়া তৈরির কারিগরদের দ্বারস্থ হন।