মিয়ানমারে রাতভর তল্লাশির পর রাস্তায় লাখো মানুষ

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২১, ০০:৩৯

মিয়ানমারে রাতভর সামরিক জান্তার নিরাপত্তাবাহিনী তল্লাশি চালালেও গতকাল রবিবার রাস্তায় লাখো মানুষের বিক্ষোভ হয়েছে। নিরাপত্তা হেফাজতে নেত্রী অং সান সু চির এনএলডির এক নেতার মৃত্যু হয়েছে। চীন জানিয়েছে, মিয়ানমারের সংকট নিরসনে তারা সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় রাজি। খবর রয়টার্স ও বিবিসির

খিং মন ল্যাটসের মৃত্যুর কারণ জানা যায়নি। তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, একটি ছবিতে খিং মনের শরীর ও মাথায় রক্ত দেখা গেছে। দলের এমপি সিথু মং এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, খিং মন ছিলেন তাদের প্রচারণা দলের ম্যানেজার। শনিবার রাতে তাকে ইয়াংগুন থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তার মৃত্যু নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মান্দালয় শহরে গতকাল রবিবার ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। পুলিশ বিক্ষোভ দমনে টিয়ার শেল ও স্টান গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। দেশটির নাউ মিডিয়া গ্রুপ জানিয়েছে, অন্তত ৭০ জনকে এই বিক্ষোভ থেকে গ্রেফতার করা হয়। সম্প্রতি একটি ইউনিভার্সিটি ঘিরে রাখে পুলিশ। সেখানে রাবার বুলেট নিক্ষেপের মাধ্যমে সবাইকে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। এখানে অন্তত দুই জন আহত হয়েছেন। ইয়াংগুন এবং ল্যাশিও শহরেও পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, মন্দিরের শহর বেগানে বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে। বিভিন্ন বাসিন্দার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই দৃশ্য দেখা গেছে। দেশটির দক্ষিণের ডাওই শহরে এক গণতন্ত্রপন্থি বলেন, সামরিক জান্তার সরকার মুরগি এবং পাখি যেভাবে মারা হয় সেভাবেই মানুষকে গুলি করে মারছে।

সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় রাজি চীন

প্রতিবেশি মিয়ানমারের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি চীন। গতকাল রবিবার চীন সরকারের শীর্ষ কূটনীতিক স্টেট কাউন্সিলর ওয়াং ইয়ি বলেছেন, বেইজিং কোনো পক্ষ নিচ্ছে না। সামরিক অভ্যুত্থানের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিকে চীন যেমনটি চেয়েছিল তেমন নয় বলে বলছে বেইজিং। অভ্যুত্থানে চীনের সংশ্লিষ্টতাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো গুজব বলে আখ্যায়িত করেছে বেইজিং। এক সংবাদ সম্মেলনে ওয়াং বলেন, উত্তেজনা নিরসনে মিয়ানমারের সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনায় বসতে প্রস্তুত চীন। এর মূলভিত্তি হবে মিয়ানমারের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ইচ্ছা। চীন গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে চায়।