বাংলাদেশের ইন্টারনেটের সার্ভিস নিয়ে অভিযোগ অনেক পুরোনো। কিছুক্ষণ পরপর বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াসহ কাঙ্ক্ষিত গতি কখনোই মেলে না। অথচ ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রধান অনুসঙ্গ ইন্টারনেট। স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্সের গত জানুয়ারি মাসের সূচক অনুযায়ী ১৪০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৬তম। এমনকি আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া-সোমালিয়ার চাইতেও বাংলাদেশের ইন্টারনেটের অবস্থা খারাপ। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে খারাপ অবস্থা শুধু আফগানিস্তানের। এমন পরিস্থিতিতে আজ সোমবার অবিক্রিত স্পেকট্রামের নিলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানি এই নিলামে অংশ নিচ্ছে।
স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী শুধু সেবার মানই খারাপ না, বাংলাদেশে ইন্টারনেটের মূল্যও অতি উচ্চ। বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবার মান খারাপ হওয়ার জন্য অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছিল, মোবাইল অপারেটরদের কাছে পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম নেই। আন্তর্জাতিকভাবে যেখানে ১ লাখ মানুষের জন্য এক মেগাহার্ডস স্পেকট্রাম বরাদ্দ করতে হয়, সেখানে বাংলাদেশে গ্রামীণফোনের ২০ লাখ মানুষের জন্য এক মেগাহার্ডস স্পেকট্রাম বরাদ্দ রয়েছে। ফলে কম স্পেকট্রাম দিয়ে বেশি মানুষকে সেবা দিতে গিয়ে সেবার মান তলানিতে ঠেকেছে।
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ইত্তেফাককে বলেন, আমরা তো অনেক দিন ধরেই অপারেটরদের স্পেকট্রাম কিনতে বলছি। অবিক্রিত স্পেকট্রাম থাকার পরও তারা কেনেনি। আসলে গ্রামীণফোন বা রবির যে পরিমাণ গ্রাহক তাদের সঠিক সেবা দিতে গেলে তাদের অন্তত ১০০ মেগাহার্ডস করে স্পেকট্রাম দরকার। অথচ আছে মাত্র ৩৭ মেগাহার্ডস। আবার তারা টাকা দিলেও আমরা তাদের চাহিদামতো স্পেকট্রামও দিতে পারব না। ফলে শুধু স্পেকট্রাম না ব্রডব্যান্ড সংযোগেও তাদের গুরুত্ব দিতে হবে। সোমবার যে নিলাম হবে, জানি না তারা কতটুকু কিনবে, কিন্তু এতে যে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হবে না, সেটা নিশ্চিত।
স্পিডটেস্ট গ্লোবাল ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী শুধু আফ্রিকার ঐ দুই দেশ নয়, মোবাইল ইন্টারনেটের গতির দিক দিয়ে ভারত কিংবা পাকিস্তানের থেকে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় শুধু বাংলাদেশের চাইতে কম গতির ইন্টারনেট রয়েছে আফগানিস্তানে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১৪০টি দেশের মোবাইল ইন্টারনেটের গতি জরিপে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৬তম। যা গত বছরের চাইতে এক ধাপ পিছিয়ে।
জানা গেছে, সোমবারের নিলামে ২১০০ ব্র্যান্ডের ৫ মেগাহার্ডস করে ২০ মেগাহার্ডস, আর ১৮০০ ব্র্যান্ডের ২ দশমিক ২ মেগাহার্ডস করে ৩টি ব্লক ও পয়েন্ট ৪ মেগাহার্ডস করে দুইটি ব্লক কেনার সুযোগ পাবেন অপারেটররা। এই স্পেকট্রাম দিয়ে শুধু থ্রিজি ও ফোরজিতে সেবা দেওয়া যাবে। ফাইভজি এলে তখন ২৬০০ ব্র্যান্ডের স্পেকট্রাম নতুন করে কিনতে হবে অপারেটরদের।
