সুন্দরবনে থামছে না হরিণ শিকার

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২১, ২১:২২

দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা 

সুন্দরবনে অবাধে ফাঁদসহ বিভিন্নভাবে হরিণ শিকার করছে চোরা শিকারিরা। এসব হরিণের মাংস আবার বনসংলগ্ন দাকোপের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্য প্রাণীও রেহাই পাচ্ছে না এসব শিকারির হাত থেকে। 

সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার অসিত মণ্ডল, জামাল শেখসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনের কোলঘেঁষা উপজেলার সুতারখালী, কালাবগী, নলিয়ান, কালিনগর, কৈলাশগঞ্জ, রামনগর, বানিশান্তা, ঢাংমারী, খেজুরিয়া ও লাউডোব এলাকার কয়েকটি হরিণ শিকারি চক্রের সদস্য বেশ কিছুদিন যাবত্ সুন্দরবনে অবাধে ফাঁদসহ নানা কৌশলে হরিণ শিকার করছে। তারা গোপনে সুন্দরবনে ঢুকে অনেক লম্বা ফাঁদ দিয়ে খুব সহজেই হরিণ শিকার করে লোকালয়ে নিয়ে আসে। পরে বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ডার নেওয়া লোকজনের কাছে বিক্রি করে। মাঝেমধ্যে বনবিভাগ, কোস্ট গার্ড ও থানাপুলিশের কাছে হরিণের মাংস এবং চামড়াসহ ধরা পড়লেও থেমে নেই ঐ হরিণ শিকারির দল।

পূর্ব বনভিবাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, তিনি এই স্টেশনে আসার পর বনসংলগ্ন এলাকার কয়েকটি চোরা শিকারি চক্রের সদস্যের বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা দিয়েছেন। তার পরও চোরা শিকারিরা থেমে নেই। তবে হরিণ শিকার বন্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান। 

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লে. ইমতিয়াজ আলম জানান, সম্প্রতি ৪১ কেজি হরিণের মাংস, একটি মাথা ও তিন কেজি ওজনের হরিণের ভুড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটানায় তিন জনকে আটকের পর মামলা দিয়ে কোর্টহাজতে পাঠানো হয়। এছাড়া গত ১৮ নভেম্বর দুটি হরিণের মাথা, ১০ কেজি মাংস, একটি মোটরসাইকেল, একটি মোবাইল ফোন ও চারটি ফাঁদ পরিত্যক্ত অবস্থায় জব্দ করা হয়। এছাড়া গত ৫ মার্চ একটি জীবিত হরিণ ও ফাঁদসহ এক শিকারিকে আটক করে বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দাকোপ থানার ওসি শেখ সেকেন্দার আলী বলেন, গত ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে সাড়ে ১৫ কেজি হরিণের মাংসসহ পাঁচ জনকে আটকের পর মামলা দিয়ে কোর্টহাজতে পাঠানো হয়েছে।

চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. এনামুল হক জানান, চোরা শিকারি চক্রের সদস্যদের নাম ও ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়েছে। দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।