সোনা জিতে জবাব সুমিতার

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৫৬

স্পোর্টস রিপোর্টার

কারও নজরে ছিলেন না এক সময়ের দেশ সেরা হার্ডলার সুমিতা রানী। গত জুলাইয়ে সামার মিটে দ্বিতীয় হয়েছিলেন তিনি। তখনই সমালোচকদের তীর ছুটে ছিল তার দিকে। অনেকেই বলছিলেন সুমিতা শেষ, সুমিতা শেষ। ওর বয়স হয়ে গিয়েছে। এসব কথা শুনে শুনে রাগ ক্ষোভ অভিমানে নিজেকে আরও বেশি ঢেলে দিয়েছিলেন অনুশীলনের মাঠে। পরিশ্রমের ফসল পেয়েছেন। গতকাল জাতীয় অ্যাথলেটিকসের ১০০ মিটার হার্ডলসে সোনার পদক জিতেছেন। ১৫ সেকেন্ড সময় নিয়েছেন সুমিতা। সামার মিটে দ্বিতীয় হওয়াটা সমালোচকদের কাছে কলঙ্ক মনে হলেও সুমিতার কাছে তা ছিল পারফরম্যান্সের উঠা-নামা।

সুমিতা রানী তাই জানতেন এভাবে জবাবটা দিতে পারবেন। শুধু চাইতেন সৃষ্টিকর্তার কৃপা। সেটাই পেয়ে গেছেন কাল। তাই এদিন বিজয়ের পর আনন্দে আবেগে চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না সুমিতা রানী। কান্নায় ভেঙে পড়লেন ১০০ মিটার হার্ডলসের রানী। দৌড়ে গিয়ে নিজেদের দলের খেলোয়াড়দের জড়িয়ে ধরলেন। কাঁদলেন নিজের দল বাংলাদেশ জেল এর পতাকা বুকে জড়িয়ে। সবার চোখ কেড়ে নিলেন। দৌড়ে গিয়ে তার এক সময়ের প্রতিপক্ষ জিয়াসমিনকে জড়িয়ে ধরলেন।

২০১০ এসএ গেমসে রৌপ্য পাওয়া হার্ডলার সুমিতা রানী অশ্রুসজল চোখে জানতে চাইলেন, ‘আমি কী বুড়ো হয়ে গিয়েছি ?’ কেন এমন কথা? তখনই তার দলের কোচ-খেলোয়াড়রা বলছিলেন সামার মিটে স্বর্ণ পাওয়ায় সুমিতাকে অনেকেই অবহেলা করেছে। দলের কোচ শফিকুল ইসলাম বলছিলেন, ‘স্পিড এবং এন্ডুরেন্স ঘাটতির কারণে সামার মিটে প্রথম হতে পারেনি সুমিতা। গত কয়েক মাস এটা নিয়ে প্রচুর কাজ করা হয়েছে। অনুশীলন করেছে সুমিতা।’ সুমিতা কাশিমপুর কারাগারে অনুশীলন করেছেন। প্রয়োজনে সপ্তাহে তিন দিন বিকেএসপির ট্র্যাকও ব্যবহার করেছেন। কোচ বললেন, ‘শুধু ডায়েট চার্ট যোগ করা হয়েছে। কঠোর পরিশ্রম উন্নতি এনে দেয় সুমিতা তারই প্রমাণ।’