বাড়তি স্পেকট্রামে মোবাইল সেবার মান কতটা বাড়বে?

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২১, ২২:৪৪

মোবাইল অপারেটররা বাড়তি কিছু স্পেকট্রাম তো কিনল, এখন কী সেবার মান বাড়বে? সাধারণ মানুষের মনে এই প্রশ্ন। সরকারি তরফ থেকে বলা হচ্ছে সেবার মানে কিছুটা হলেও উন্নতি হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বল্পকালীন সময়ে কিছুটা উন্নতি হলেও দীর্ঘমেয়াদি কোনো সুফল মিলবে না। যতদিন পর্যন্ত অপটিক্যাল ফাইবার অবকাঠামোর উন্নতি না হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ মূল্যে গ্রামীণফোন স্পেকট্রাম কেনায় গ্রাহকদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে কি না, এ নিয়ে সংশয়ে আছেন সাধারণ গ্রাহকরা। তবে  বিটিআরসি বলছে, প্রতিটি সার্ভিসের দাম আগেই ঠিক করা আছে। আর প্রতিযোগিতামূলক বাজারে হুট করে চার্জ বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই।

টেলিকম বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আবু সাঈদ খান বলছেন, নতুন করে এ স্পেকট্রাম বরাদ্দের কারণে টেলিকম সেবায় স্বল্পকালীন কিছু উন্নতি হবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সুফল আসবে না। দীর্ঘমেয়াদি সুফল আনতে হলে অপটিক্যাল ফাইবার অবকাঠামো উন্নত করতে হবে সরকারকে। এখন সেই অবকাঠামো ঠিক না করেই তরঙ্গ বরাদ্দ দেওয়া হলো। এর ফলে সীমিত সময়ের জন্য গ্রাহকদের সংযোগ বা এমন সেবার কিছু উন্নতি হলেও নতুন করে আবার গ্রাহক বাড়লে সেই আগের সমস্যাই দেখা দেবে।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারও ইত্তেফাককে বলেছেন, আসলে গ্রামীণফোন বা রবির যে পরিমাণ গ্রাহক তাদের সঠিক সেবা দিতে গেলে অন্তত ১০০ মেগাহার্ডস করে স্পেকট্রাম দরকার। অথচ গ্রামীণফোনের তরঙ্গ হলো ৪৭ দশমিক ৪ আর রবির ৪৪। বিষয়টা এমন যে, তারা টাকা দিলেও আমরা তাদের চাহিদামতো স্পেকট্রামও দিতে পারব না। ফলে শুধু স্পেকট্রাম দিয়ে সেবার মান বাড়বে না। অপটিক্যাল ফাইবার সংযোগেও তাদের গুরুত্ব দিতে হবে। তবে এখন বাড়তি স্পেকট্রামের ফলে সেবার মান কিছুটা তো বাড়বে।  

সোমবারের নিলামে অংশ নিয়ে গ্রামীণফোন ১০ দশমিক ৪, রবি আজিয়াটা ৭ দশমিক ৬ ও বাংলালিংক ৯ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম কেনে। সব মিলিয়ে নিলাম শেষে গ্রামীণফোনের তরঙ্গ ৪৭ দশমিক ৪, রবির ৪৪, বাংলালিংকের ৪০ ও টেলিটকের ২৫ দশমিক ২ মেগাহার্টজ দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকসংখ্যা যত বেশি, তার বেশি স্পেকট্রাম দরকার হয়। সেবার মান নিশ্চিতের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় হাতিয়ার। নিলাম শেষে সোমবার টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, প্রক্রিয়া শেষে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে এই স্পেকট্রাম ব্যবহার শুরু করা যাবে। তখন সেবার মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলেই আমরা আশা করছি।

এখন প্রশ্ন উঠেছে ২১০০ ব্যান্ডের ৫ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম নিয়ে গ্রামীণফোন ও রবি লড়াই করেছে। সর্বশেষ গ্রামীণফোন মেগাহার্টজপ্রতি ৪ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারে কিনে নেয়। অর্থাত্ এই ৫ মেগাহার্ডস স্পেকট্রামের দাম পড়েছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। যদিও দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়া নিয়ে বিটিআরসি দুই অপারেটরকে সতর্ক করেছিল। বিটিআরসির কমিশনার এ কে এম শহীদুজ্জামান দুই অপারেটরের উদ্দেশ্যে বলেন, অনেক চড়া দাম অপারেটর ও জাতির জন্য ভালো হবে না। চড়া দামের স্পেকট্রাম গ্রাহক পর্যায়ে সেবার বাড়তি দামের একটি কারণ।

তবে বিটিআরসি বলছে, বেশি দামে স্পেকট্রাম কিনলেও গ্রাহকদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অধিকাংশ সেবার মূল্য নির্ধারণ করা আছে। তবে গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকেও আশ্বস্ত করা হয়েছে, বাড়তি দামে স্পেকট্রাম কেনার ফলে গ্রাহকদের ওপর বাড়তি কোনো চাপ পড়বে না। বরং গ্রাহকরা ভালো সেবা পাবেন। অপরদিকে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার সাহেদ আলম এক বিবৃতিতে বলেছেন, বিটিআরসির সর্বশেষ নিলাম থেকে তারা লক্ষ্য অনুসারে প্রয়োজনীয় স্পেকট্রাম কিনতে পেরেছেন।