পেনাল্টি, গোল, লালকার্ড, পালটা গোল এবং অতিরিক্ত সময়ের থ্রিলার; তুরিনে শ্বাসরুদ্ধকর এক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচে গত মঙ্গলবার এফসি পোর্তোকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েও অ্যাওয়ে গোল আইনে বাদ পড়েছে জুভেন্তাস। সার্জিও অলিভিয়েরোর জোড়া গোলে ‘তুরিনের বুড়িদের’ শেষ ষোলো থেকে বিদায় দিয়ে এদিনে দৈত্যবধের আনন্দে মেতেছে ম্যাচের সিংহভাগ সময় ১০ জন নিয়ে খেলা পোর্তো। ওদিকে বিস্ময়বালক আর্লিং হাল্যান্ড উপহার দিয়েছেন আরেকটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ মাস্টারক্লাস। তার জোড়া গোলে দ্বিতীয় লেগে সেভিয়ার সঙ্গে ড্র করেছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, দুই লেগ মিলিয়ে পৌঁছে গেছে কোয়ার্টারে।
চার বছরে দুইবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে হেরে ২০১৮ সালে জুভেন্তাস দলে ভিড়িয়েছিল এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। বছরের পর বছর ধরে ঘরোয়া ফুটবলের সবকিছু জিততে থাকা জুভেন্তাসের রোনালদোর পিছনে ১০০ মিলিয়ন ইউরো খরচ করার মূল কারণ ছিল একটিই, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফিটা ফের তুরিনে ফিরিয়ে আনা। কিন্তু রোনালদোর আগমনে যেন হিতে বিপরীত হলো। এই পর্তুগিজকে কেন্দ্র করে দল সাজাতে গিয়ে নষ্ট হয়ে গেল বিয়াঙ্কোনারিদের স্বাভাবিক ছন্দ, রোনালদোও এই দল থেকে পেলেন না রিয়াল মাদ্রিদের আমেজ। যে কারণে রোনালদোকে নিয়ে তিন মৌসুমে একবারও কোয়ার্টার ফাইনালই পেরোতে পারল না জুভেন্তাস। শেষ দুবার লিওঁ ও পোর্তোর মতো দলের কাছে হেরে বাদ পড়ল শেষ ষোলো থেকেই। তবে মঙ্গলবার জুভেন্তাসের ‘জয়ে মোড়ানো’ পরাজয়ে কৃতিত্ব দিতে হবে পোর্তোকেও।
দুই লেগ মিলিয়ে মোট ২১০ মিনিট ধরে যে হার না মানা মানসিকতা দেখিয়েছে পর্তুগিজ দলটি, তার তুলনা হয় না। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি গোল হজম করার পরই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে পোর্তোর মেহদি তারেমি। তখনই বদলে যায় ম্যাচের গতিপথ। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে জুভেন্তাস। কিন্তু জুভেন্তাসের চোখ ধাঁধানো সব আক্রমণের মধ্যেও মাথা উঁচিয়ে লড়ে গেছে পেপেরা এবং এর প্রতিদান পেয়েছে তারা অতিরিক্ত সময়ে। ১১৫ মিনিটে ডি বক্সের বেশ বাইরে পাওয়া এক ফ্রিকিক থেকে গোল করে বসেন প্রথমার্ধে পোর্তোকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া অলিভিয়েরো। রোনালদোর দুই পায়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া মাটি কামড়ানো এই দুর্দান্ত ফ্রিকিকই শেষ পর্যন্ত নিশ্চিত করে পোর্তোর কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।
ওদিকে সিগনা ইদুনা পার্ক অন্যরকম এক রোমাঞ্চের সাক্ষী হয়েছে মঙ্গলবার রাতে। ভিএআর ও পেনাল্টি বিতর্কে পূর্ণ এই রাতে আবারও সেভিয়ার রক্ষণকে ভেঙেচুড়ে দুইবার বল জালে জড়ান হাল্যান্ড। দ্বিতীয়ার্ধে সেভিয়ার ইউসুফ এন নেসেরি দুটি গোল করলেও ঠিক ম্যাচে ফিরতে পারেনি ইউরোপা চ্যাম্পিয়নরা। ২-২ ব্যবধানে ড্র করেই তাই কোয়ার্টারে উঠে গেছে ডর্টমুন্ড।
১৯’ : জুভ ০-১ পোর্তো (১-৩)
৪৯’ : জুভ ১-১ পোর্তো (২-৩)
৫৪’ : ১০ জনে নেমে যায় পোর্তো
৬৩’ : জুভ ২-১ পোর্তো (৩-৩)
১১৫’ : জুভ ২-২ পোর্তো (৩-৪)
১১৭’ : জুভ ৩-২ পোর্তো (৪-৪)
ফলাফল : অ্যাওয়ে গোল আইনে পোর্তো জয়ী
