হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দায়ী করে মামলার আবেদন করেছেন কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর। বুধবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে হাজির হয়ে এ মামলার আবেদন করেন তিনি। ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থানায় গ্রেফতার দেখানোর আগে ‘অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন’ চালানোর অভিযোগে ‘হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ’ আইনে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে তিনি মামলা করেন। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি এ সংক্রান্ত জবানবন্দি দেন। জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি পড়ে যান। পরে তিনি অন্যের সহযোগিতায় উঠে দাঁড়ান। তার শরীরের হাত-পা কাঁপছিল। তার জবানবন্দি আদালত গ্রহণ করেন। আদালত বাদির জবানবন্দি গ্রহণের পর আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল এ তথ্য জানান।
মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ মে রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। কিন্তু তারও তিন দিন আগে ২ মে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে সাধারণ পোশাকের ১৬-১৭ জন লোক কাকরাইলের বাসা থেকে তাকে ‘জোর করে হাতকড়া ও মুখে মুখোশ পরিয়ে অজ্ঞাত এক নির্জন জায়গায়’ নিয়ে যায়। ঐ তিন দিন তাকে সেখানে ‘নির্যাতন’ করা হয় অভিযোগ করে, তার বিস্তারিত বিবরণও মামলার আর্জিতে তুলে ধরেছেন কিশোর।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত বছরের ২ মে সন্ধ্যার দিকে কলিং বেলের শব্দে কিশোরের ঘুম ভাঙে। দরজা খুলতেই অপরিচিত এক লোক বলেন, ‘দরজা খোলেন না কেন? পরনের লুঙ্গি পরিবর্তন করে প্যান্ট পরে নেন। সাথে একটা ভালো শার্ট।’ কিশোর পরিচয় জিজ্ঞেস করলেও তারা পরিচয় দেননি; তবে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তায় তাদের একজনকে ‘জসিম’ নামে ডাকতে শোনার কথা কিশোর তার আর্জিতে লিখেছেন। বলেছেন, অপরিচিত ঐ লোকেরা ঘরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করে। অথচ কোনো ধরনের পরোয়ানা তারা দেখাতে পারেনি। কিশোরের বাসা থেকে তার ব্যবহূত মোবাইল ফোন, কম্পিউটার সিপিইউ, পোর্টেবল হার্ড ডিস্কসহ ডিজিটাল যত ডিভাইস ছিল, সবই তারা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন কিশোর।
মামলার অভিযোগে আরো বলা হয়, কিশোরকে যখন হাতকড়া পরিয়ে বাসার নিচে নামিয়ে আনা হয়, তখন সেখানে ছয়-সাতটি গাড়ি অপেক্ষা করছিল। তাকে একটি গাড়িতে তোলার সময় বাসার সামনে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছিল। গাড়িতে তোলার পর কিশোর চিত্কার শুরু করলে সেই শব্দ চাপা দিতে জোরে গান বাজানো হয়, যাতে চিত্কারের শব্দ বাইরে না যায়।
অভিযোগে আরো বলা হয়, তাকে একটি পুরোনো ও স্যাঁতসেঁতে ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রচণ্ড জোরে তার কানে থাপ্পড় মারলে কিছুক্ষণের জন্য তিনি বোধশক্তিহীন হয়ে পড়েন। পরে বুঝতে পারেন, তার কান দিয়ে রক্ত গলগলিয়ে পড়ছে। তারপর স্টিলের পাত বসানো লাঠি দিয়ে পায়ে পেটাতে থাকে। যন্ত্রণায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন কিশোর। এভাবে কয়েক দফা ২ মে থেকে ৪ মে পর্যন্ত শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের পর তাকে র্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যায়। তাদের আলাপ-আলোচনায় এক জনকে জসিম বলে ডাকতে শোনেন।
