বরিশালে ভাঙচুরের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য প্রত্যাহার

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১৩

দুদকের হাতে ইউপি চেয়ারম্যান আটক

বরিশাল অফিস

বরিশালে খাদ্য অধিদপ্তর ও  ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের হাতাহাতি, সংঘর্ষ ও খাদ্য অফিসে ভাঙচুরের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ৪ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহারকৃত সদস্যরা হলো- ফায়ার সার্ভিসের বরিশাল স্টেশনের সিনিয়র অফিসার আলাউদ্দিন, ফায়ার ম্যান জামাল হোসেন, আলতাফ হোসেন ও শাহিন হাওলাদার। প্রত্যাহারকৃতদেরকে ফায়ার সার্ভিসের প্রধান দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুলফিকার রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শহীদুল ইসলাম, মেট্রোপলিটনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঞা, আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজা মো: মহসিন, ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক ফারুক আহম্মেদ, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অবনি মোহন দাস এবং সদর উপজেলার খাদ্য পরিদর্শক নজরুল ইসলাম। সভা শেষে জেলা প্রশাসক অজিয়র রহমান জানান, রেশন নিতে গিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা করে দিয়েছি। একই সাথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাথে জড়িত ফায়ার সার্ভিসের ৪ কর্মীকে প্রত্যাহার করেছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। এছাড়াও খাদ্য অধিদপ্তরের কোনো সদস্য এই ঘটনায় দোষী কিনা সে বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কেউ দোষী থাকলে তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রেশন দিতে গড়িমসি ও রেশন কম দেওয়ার অভিযোগ এনে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মীদের সাথে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের হাতাহাতি, সংঘর্ষ ও খাদ্য অফিসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

দুদকের হাতে ইউপি চেয়ারম্যান আটক

বরিশালে ভিজিডির চাল আত্মসাতের ঘটনায় বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ আমানকে আটক করেছে দুদক। গত বুধবার দুপুরে নগরীর চৌমাথা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত বরিশাল জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আবুল হাশেম কাজী জানান, চাঁদপুরা ইউনিয়ন পরিষদের ২৫১ জন ভিজিডি উপকারভোগীর প্রতিজনের ৩০ কেজি করে প্রতিমাসে ৭ দশমিক ৫৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিমাসের চাল প্রতিমাসে বিতরণ করার নিয়ম থাকলেও ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের বরাদ্দকৃত ২২ দশমিক ৫৯০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়নি। পরে তিন মাসের চাল একত্র করে প্রত্যেককে ৯০ কেজির স্থলে ৬০ কেজি চাল দেওয়া হয়। এতে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ আমান ৫ দশমিক ০২০ মেট্রিক টন চাল আত্মসাত্ করেন। এর সাথে জড়িত ছিলেন ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন। এই ঘটনায় চেয়ারম্যান আমানুল্লাহকে আটকের পর বন্দর থানায় একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।