নতুন তর্কে সামিল হয়েছেন বরেণ্য চিত্রনির্মাতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু। একজন বরেণ্য চিত্রনির্মাতা হিসেবে তার সাফল্য আকাশচুম্বী। কিন্তু তারই নতুন ছবির নবাগত নায়িকার কথার পাল্টা বক্তব্যেই বাহাস তৈরি হয়েছে। সে বিষয়েই গতকাল আমরা ছেপেছি দীঘির বক্তব্য। আজ রইল দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর কথা। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন এ এম রুবেল
আপনার ‘তুমি আছো তুমি নেই’ ছবিটি নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে। ছবির নায়িকা দীঘির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাচ্ছি—
নিজের ছবি সম্পর্কে দীঘি যে ধরনের মন্তব্য করেছে সেটা ছবির নায়িকা হিসেবে সে করতে পারে না। আমার ক্যারিয়ারেও অনেক ফ্লপ ছবি আছে। সব ছবিই যে ভালো হবে এমন না। তাই বলে কী আমি আমার ছবিকে খারাপ বলবো! ছবির ভালো-খারাপ দর্শকরা মূল্যায়ন করবেন। নায়িকা হিসেবে খারাপ মন্তব্য করায় আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। তাই মামলা করেছি। এখান থেকে পেছনে ফিরে আসতে চাই না। শাস্তি হলে হবে, না হলে নাই!
নিজের প্রথম ছবিতেই দীঘি কটুক্তি করলেন। এটা দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে প্রথম। তিনি এটা কেন করেছেন বলে মনে করেন?
দীঘি কেন এমন কটুক্তি করলো সেটা আমার বোধগম্য নয়। ছবি শুরুর আগে বলেছিল গল্প ভালো, কাজও ভালো হচ্ছে। কিন্তু মুক্তির আগে ছবিটি না দেখেই নেতিবাচক মন্তব্য করেছে। আমার মনে হয় অন্যের কথায় কাজটি করেছে। কেউ হয়তো তাকে দিয়ে কাজটি করাচ্ছে।
আপনি এক সময় নিজেকে উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ পরিচালক দাবি করেছিলেন। এ নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন। বিষয়টি আপনার কাছে কেমন লাগে?
না, না। এ কথাটিতে আমার আপত্তি আছে। আমি কখনোই বলিনি যে, আমি উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ পরিচালক। আমি বলেছিলাম, উপমহাদেশে আমার চেয়ে বেশি ছবি কেউ নির্মাণ করেননি। আমি কী ঋত্বিক ঘটক, সত্যজিত্ রায় বা জহির রায়হানের চেয়ে বড়? আমি কী পাগল যে, এমন দাবি করবো? আমার সেদিনের বক্তব্যকে এডিট করে ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে। এডিট করে অনেক ছোট করা হয়েছে আলোচনাটি। হয়তো ওনারা ইচ্ছে করে আমাকে হেয় করতে এই কাজটি করেছেন। তবে কাজটি ঠিক করেনি। একজন মানুষকে এভাবে ছোট করার মানে হয় না।
এখন সিনিয়র পরিচালকরা তেমন কাজ পাচ্ছেন না। বিষয়টি নিয়ে আপনার বিজ্ঞ মতামত জানতে চাচ্ছি—
কাজ পাচ্ছে না এমন না। আমি তো কাজ করছি মাঝে মাঝে। তবে এমন সমালোচনায় আর ছবি নির্মাণ করবো কি-না সেটাই ভাবছি। কারণ এত সমালোচনায় ছবি নির্মাণ করা যায় না। মনে হচ্ছে, ছবি নির্মাণ আর না করাই ভালো। তাছাড়া এখন ছবি নির্মাণই তো কমে গেছে। অনেকে আবার জুনিয়র দিয়ে ছবি নির্মাণ করতে চায়। অনেকে মনে করেন, বয়স হয়েছে গেছে বলে হয়তো সেই মাপের কাজ আর আমরা করতে পারবো না। অন্যদিকে ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো প্রযোজকেরও অভাব রয়েছে। আর একজনই তো সারাজীবন একই কাজ করবে না। একদিন অবসর নিতেই তো হবে।
আপনাদের সময় অনেক তারকা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সময়ের নির্মাতারা সেভাবে তারকা তৈরি করতে পারছে না। এ কারণ কী বলে মনে করেন?
এখন অনেকেই ছবিতে আসতে চায় না। ছবির প্রতি যে মোহ থাকে সেটা হারিয়ে ফেলেছে। কারণ আমাদের ছবির মার্কেট ভালো না। তাই নতুন তারকা তৈরি হচ্ছে না। আর প্রতিটি দেশেই কিন্তু এক বা দু’জন তারকার ওপর ভরসা বেশি থাকে। আমাদেরও পাকিস্তান আমল বা স্বাধীনতার পর, এমনকি এখনো ওই দু-চারজনের ওপরই আস্থা রাখা হয়। তো এতে হতাশার কিছু নেই। এভাবেই ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে যাবে।
আপনার চতুর্থ নম্বর সহকারী যে ছিলেন, তিনিও এখন অনেক বড়মাপের নির্মাতা। তাদের কাজকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?
তারা আমার কাছে কাজ শিখেছে, ভালো পরিচালক হয়েছে, এটাই আমার আমার জন্য যথেষ্ট। তারা বিভিন্ন প্রোগ্রামে গেলে আমার কথা বলে যে, আমি তাদের ওস্তাদ। এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কী হতে পারে! আর ওদের কাজ আমি মূল্যায়ন কেন করবো, দর্শকরা তাদের ছবি দেখে ভালো-খারাপ বিচার করবে।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট সংগঠনের নামে একে অন্যকে বয়কট করার একটি রীতি চর্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?
সত্যি যদি কেউ খারাপ আচরণ করে, তবে তার বিরুদ্ধে সংগঠন থেকে একটা সিদ্ধান্ত নিতেই পারে। কেউ ভুল করলে পরিবার থেকে ব্যবস্থা নেওয়া দোষের কিছু নয়। তবে সেটা অভিযোগ যাছাই করে নিতে হবে।
চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি এখন নানামুখি সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। একজন সফল নির্মাতা হিসেবে বিষয়টি কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
মানুষের হলে যাওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। তাই অনেক হল বন্ধ হয়ে গেছে, এখনো বন্ধ হচ্ছে। ছবির নির্মাণও খুব কম। তাই এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে শিগগিরই আমাদের চলচ্চিত্র ঘুরে দাঁড়াবে, এই বিশ্বাস আমার রয়েছে।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে শ্রেষ্ঠ কাজটি করে ফেলেছেন বলে মনে করেন? শেষজীবনে এসে চলচ্চিত্র নিয়ে আশাবাদ কী?
শ্রেষ্ঠ কাজটি করেছি কি-না সেটা আমি বিচার করার কেউ না। আমার দেশের মানুষ, আমার দর্শকরাই সেটা মূল্যায়ন করবেন। আমি চেষ্টা করেছি ভালো ছবি উপহার দেওয়ার। আর চলচ্চিত্র যেহেতু আমার ধ্যান-জ্ঞান, তাই সবসময় চাই এটা ভালো থাকুক। আরো উন্নতি করুক।
