বিপাকে বোরো চাষিরা
মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মহামায়া সেচ প্রকল্পের আওতাধীন মহামায়া ছড়ার ওপর অপরিকল্পিত বাঁধ দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে বিপাকে পড়েছে উপজেলার মধ্যম মঘাদিয়া, তারাকাটিয়া, বাঘখোলা, নাজিরপাড়া ও মলিয়াইশ এলাকার হাজারো বোরো চাষি। মহামায়া ছড়ার ওপর এই বাঁধটি দেওয়া হয়েছে ৯ নম্বর সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের টিএন্ডটি অফিসের পূর্ব পাশে।
এ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে বুধবার গত বিকালে মহামায়া ছড়ার ওপর দেওয়া বাঁধের স্থানে গিয়ে দেখা যায়, ছড়ার পাড় কেটে সেই মাটি দিয়েই বাঁধ দেওয়া হয়েছে প্রবাহমান ছড়ায়। এতে মহামায়া ছড়ার উত্তর পাশে পানি ফুলে-ফেঁপে উঠেছে। কোনো ধরনের সেচের ব্যবস্থা ছাড়াই কিছু পরিমাণ পানি প্রবেশ করছে মহামায়া ছড়ার পশ্চিম পাশের কৃষি জমিতে। কিন্তু বাঁধের জন্য নিচের দিকে পানি না যাওয়ায় বোরো মৌসুমে মলিয়াইশ খালে পানি থাকে না। স্থানীয়রা জানান, বাঁধের পাইপ দিয়ে মাঝেমধ্যে নিচে মলিয়াইশ খালের দিকে পানি ছাড়া হয়। মহামায়া ছড়ার ওপর বাঁধ দেওয়ার বিষয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মধ্যম মঘাদিয়া এলাকার ভুক্তভোগী কৃষক মো. জাহাঙ্গীর, মফিজ, লুত্ফুল হক, মির আহাম্মদ ও আমবাড়িয়া এলাকার কৃষক জামাল উদ্দিন বলেন, মহামায়া ছড়ায় বাঁধ দেওয়ার ফলে মলিয়াইশ খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। পানির অভাবে ইতিমধ্যেই ধানখেতের কিছু ক্ষতি হয়ে গেছে। গত তিন দিন আগেও এই খালে মোটেও পানি ছিল না। এখানকার কৃষকদের অনুরোধে সম্প্রতি বাঁধের পাইপ দিয়ে সামান্য কিছু পানি এদিকে ছাড়া হয়েছে। এই পানিও দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। পরে আর পানি পাওয়া যাবে কি না, এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। মহামায়া ছড়ায় বাঁধ দেওয়া প্রসঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মিরসরাই অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আবদুল কাদের ইত্তেফাককে বলেন, প্রবাহমান ছড়ার ওপর বাঁধ দেওয়া কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। প্রবাহমান ছড়ায় কোথাও পানি আটকানোর প্রয়োজন হলে সেখানে আমরা রেগুলেটর স্থাপন করি। মাঠ পর্যায়ে আমাদের লোকবল কম থাকায় মহামায়া ছড়ায় বাঁধ দেওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পারিনি। আমি ঐ বাঁধের স্থান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
বাঁধ দেওয়ার বিষয়ে ৯ নম্বর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এমরান উদ্দিন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, আজ থেকে প্রায় ১০ বছর আগে পূর্বতন চেয়ারম্যানের সময় স্থানীয় কৃষকরা বোরো চাষের জন্য পানি ধরে রাখতে ঐ স্থানে বাঁধ দিয়েছিল। এখনো সে বাঁধ রয়ে গেছে। এ বছরও কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাঁধটি সংস্কার করা হয়েছে। এখনই যদি এই বাঁধ সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে বাঁধের ওপরের পাশের কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে তিনি আরো বলেন, এই বোরো মৌসুম শেষ হলে ঐ বাঁধের স্থানে একটি রেগুলেটর স্থাপন করা প্রয়োজন রয়েছে। এই ব্যাপারে মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, আমি খুব দ্রুত মহামায়া ছড়ার ওপর দেওয়া বাঁধ পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
