মানিকগঞ্জে আলুর বাম্পার ফলন, দামও ভালো

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০৭

ঘিওরসহ মানিকগঞ্জের ৭টি উপজেলায় আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে দরও উঠেছে ভালো। আর ভালো দর পাওয়ায় চাষিদের মুখেও ফুটেছে হাসি। অনেক আলু ক্ষেত থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন পাইকাররা। এছাড়া ক্ষেত থেকে আলু উত্তোলন করার পর কৃষকরা বিভিন্ন পাইকারি আড়তে তা বিক্রি করছেন বেশ ভালো দামেই। বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে নতুন আলু বিক্রির শুরুতেই বাড়তি দাম পেয়ে কৃষকদের মাঝে উত্সবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর, ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয়, হরিরামপুর, সিংগাইর, সাটুরিয়ায় আলুর বাম্পার উত্পাদন হওয়ায় এবং সেই সঙ্গে দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে আলু চাষে আগ্রহ বেড়ে গেছে।

মানিকগঞ্জের ঘিওর, সিংগাইর ও সাটুরিয়া হাটে প্রচুর আলু কেনা বেচা হয়। এসব হাট বাজার থেকে আলু কিনে ঢাকার কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হয়। মানিকগঞ্জের উল্লেখিত ৭টি উপজেলা আলু চাষাবাদের জন্য খুবই উপযোগী। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এ বছর আলুর উত্পাদন ভাল হয়েছে। কয়েক বছর আগ পর্যন্ত আলু আবাদে সার, বীজ, কীটনাশক,  সেচ খরচ ও শ্রমিকের মজুরি ছিল অনেক বেশি। ফলে উত্পাদন খরচও বেড়ে গিয়েছিল এবং সেই সাথে বাজারে আলুর ভালো দাম না পাওয়ায় অনেক কৃষক আলুর আবাদ কমিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ২ বছর যাবত আলুর দাম ভাল পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে আলু চাষে আগ্রহ ফের বেড়ে যায়। ঘিওর উপজেলার রাধাকান্তপুর গ্রামের কৃষক মুন্নাফ মোল্লা জানান, তিনি এ বছর ৬ বিঘা জমিতে আলু বুনেছেন। সব মিলে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ টাকা। আলুর উত্পাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪শ মণ। বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকায়। বালিয়াখোড়া গ্রামের আঃ করিম জানান, তিনি ১০-১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন। তার খরচ হয়েছে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। এখন পর্যন্ত আলু বিক্রি করেছেন ৪ লাখ টাকার মতো। কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এবারে তাদের প্রতি কেজি আলুর উত্পাদন খরচ পড়েছে ৬-৭ টাকা। এর সঙ্গে জমি থেকে আলু উত্তোলন, বাজারজাতকরণে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ মিলে প্রতি কেজি আলু উত্পাদনে খরচ পড়েছে ৮-১০ টাকা। স্থানীয় হাটবাজারগুলোতে আলুর খুচরা দর ১৬-২০ টাকা কেজি।

মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড পাইকারি কাঁচাবাজারের আড়তদার মো. আলী হোসেন ও সাত্তার আলী জানান, গত এক সপ্তাহে এ আড়তে আলু পাইকারি বিক্রি হচ্ছে গড়ে ১৪ থেকে ১৬ টাকা দরে। প্রতিদিন এ আড়ত থেকে ৪-৫ টন আলু চলে যায় রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও বাইপাইল পাইকারি আড়তে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এলগা, মূলটা, কার্ডিনাল, মালতা, গ্যানোলা ও পোট্রোনাছ, বিনেলা জাতের আলু রোপণ করা হয়। মাটিতে জো আসার সাথে সাথে আলু বীজ রোপণ করা হয়। অল্প দিনেই চারাগাছ গজিয়ে যায়। তখন নিরানি দিয়ে আগাছা দমন, সার, কীটনাশক দিতে হয়। অগ্রহায়ণ, পৌষ ও মাঘ এই তিন মাস আলু চাষের জন্য সবচেয়ে ভাল সময় বলে তিনি জানান।

জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৪ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর আলুর আবাদ ভালো হয়েছে।