সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরুর পর থেকে ইত্তেফাক হয়ে ওঠে গণমানুষের মুখপত্র। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিল পত্রিকাটি। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আপসহীনভাবে সত্য প্রকাশ করে গেছে ইত্তেফাক। পত্রিকাটির এই ভূমিকা উপমহাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।
স্বাধীনতার মাস অগ্নিঝরা মার্চে দৈনিক ইত্তেফাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৭১ সালের ১৩ মার্চ প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার মূল খবরের শিরোনাম ছিল, ‘আমি তার স্বরে এই হুঁশিয়ারিই উচ্চারণ করিয়া যাইবো’। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আসগর খানের বক্তব্য এটি। তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের জনসাধারণকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘দেশের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে পশ্চিমাঞ্চল কিছুতেই পাঁচ বছরের বেশি টিকে থাকতে পারবে না।’
ঢাকা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর ১২ মার্চ দ্বিতীয় সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর ২৮ ফেব্রুয়ারি দেওয়া বক্তৃতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘দোষ করা হলো লাহোরে, বুলেট বর্ষিত হলো ঢাকায়। এটাই ভাগ্যের পরিহাস। যারা শক্তিবলে পূর্ব পাকিস্তানিদের দাবিয়ে রাখার কথা বলছেন তারা এতই খাটো বুদ্ধির যে, তারা কী বলছেন তা তারা ভালো করে জানেন না। এ ধরনের কথা বলা নিছক পাগলামি ছাড়া আর কিছুই নয়। এখন আর আন্দোলন শুরু করার সময় নাই, তাই আমার কণ্ঠ স্তব্ধ না করে দেওয়া পর্যন্ত তারস্বরে আমি এই সতর্কবাণী উচ্চারণ করে যাবো।’
ইত্তেফাক/জেএইচ
