ব্রিজ না থাকায় ঝিনাইগাতীর হাজারও মানুষের দুর্ভোগ

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২১, ২১:৪৮

কালঘোষা নদী

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) সংবাদদাতা

ঝিনাইগাতীর কালঘোষা নদীর হালচাটিতে ব্রিজ না থাকায় হাজারও মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের কালঘোষা নদীর হালচাটিতে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই এ নদীর হালচাটিতে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি ওঠে। কিন্তু দীর্ঘ ৫০ বছরেও এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি।

স্থানীয়দের মতে, ভারত সীমান্ত ঘেঁষা কালঘোষা নদীর হালচাটিতে ব্রিজ নির্মাণের স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এ পথে হালচাটি, গান্দিগাঁও, নওকুচি ও গজনী গ্রামের লোকজন যাতায়াত করেন। উপজেলার হালচাটি গ্রামের কোচ সম্প্রদায়ের আগ্নেশ্বর কোচ, সুরেন্দ্র চন্দ্র কোচ, বাহাদুর কোচসহ অনেকে জানান, এ নদীর হালচাটিতে একটি ব্রিজ নির্মাণের দাবি গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। তারা আরো বলেন, নদীর ওপর ব্রিজ না থাকায় এ গ্রামের মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আর বর্ষা মৌসুমে সেই দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। প্রায় ছয় বছর আগে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ সরকার গ্রামবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে এলজিএসপির অর্থে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করেন। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে সেতুটি নির্মাণ করায় পাহাড়ি ঢলের পানির তোড়ে বিধ্বস্ত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর আর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

গজনী ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এ নদীর উপর একটি ব্রিজের অভাবে তাদের দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড বিঘ্নিত হয়। তিনি বলেন, ব্রিজ না থাকায় নিলামে বিক্রি করা বনের কাঠ পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এছাড়া কোমলমতি শিশু-কিশোররা নদী পারি দিয়ে স্কুল-কলেজে যেতে পারে না।  বিজিবির ৩৯ ব্যাটালিয়নের নকসী সীমান্ত ফাঁড়ির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার  মো. উমর ফারুক বলেন, এ নদীর উপর ব্রিজ না থাকায় জরুরি কাজে বিজিবির টহলদল সীমান্তে পৌঁছাতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। উপজেলার কাংশা ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল হক বলেন, কালঘোষা নদীর হালচাটিতে একটি ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে উপজেলা উন্নয়ন ও সমন্বয় কমিটির সভায় বহুবার আবেদন নিবেদন করা হয়েছে। অনেক সময় আশ্বাসও পাওয়া গেছে। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

উপজেলা প্রকৌশলী মোজাম্মেল হক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। সরেজমিনে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।