ডিজিটালাইজেশনের সুযোগ কাজে লাগাতে দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২১, ২১:৫৬

ইত্তেফাক রিপোর্ট

ডিজিটালাইজেশনের পথ ধরে দ্রুত এগুচ্ছে বিশ্ব। ক্রমাগত নতুন নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। এর ফলে একদিকে যেমন গোটা বিশ্ব হাতের মুঠোয় চলে আসছে, অন্যদিকে সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করছে। উত্পাদনশীলতা বেড়ে যাওয়ায় ধীরে ধীরে কর্মীর স্থান দখল করে নিচ্ছে মেশিন। সম্প্রতি ব্যাপকভাবে আলোচিত চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা ফোরথ আইআর। বলা হচ্ছে, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নানা অনুষঙ্গের সঙ্গে যে যত দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারবে, ঐ দেশ কিংবা প্রতিষ্ঠান অন্যদের চাইতে তত দ্রুত এগিয়ে থাকবে।

এমন গতিময় বিশ্বে বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে? অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তথা ডিজিটালাইজেশনে অপরাপর বিশ্ব হতে বাংলাদেশ কিছু পিছিয়ে থাকলেও একেবারে বসে নেই। তবে কী গতিতে এগুতে হবে, কোথায় গুরুত্ব দিতে হবে, এর চ্যালেঞ্জ কী এবং তা উত্তরণের উপায়ওবা কী-তার বেশকিছু জবাব মিলবে অর্থনীতিবিদ ও আইটি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ মাহবুব আলীর সাম্প্রতিক প্রকাশিত এক গবেষণায়। ‘ডিজিটালাইজেশন অব দ্য ইমারজিং ইকোনমি : এন এক্সপ্লোরেটরি অ্যান্ড এক্সপ্লানেটরি কেস স্টাডি’ শীর্ষক ঐ গবেষণায় বাংলাদেশে ডিজিটালাইজেশন বিশেষত চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত্ অগ্রগতির রূপরেখা, চ্যালেঞ্জ ও তা উত্তরণের উপায় নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। ডিজিটালাইজেশনে রূপান্তর, এর প্রতিক্রিয়ায় সমাজে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, এর নেতিবাচক দিক ও তা কীভাবে সুযোগে ফেরানো যায় এবং এ লক্ষ্যে কী ধরনের নীতি সহায়তা দরকার—তা দেখানো হয়েছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে বিদ্যমান কর্মীর পাশাপাশি নতুন কর্মীর চাহিদা কমতে পারে। এর ফলে তা কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। তবে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার মাধ্যমে কীভাবে এর মাধ্যমেই কর্মসংস্থান বাড়ানোর নতুন উপায় বের করা যায়, তা দেখানো হয়েছে।

প্রথম শিল্প বিপ্লব হয়েছিল যুক্তরাজ্যে ১৮ শতকে। দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লবে ছিল মূলত প্রযুক্তির বিপ্লব। তৃতীয় শিল্প বিপ্লবে মূলত ইন্টারনেটের ব্যবহার, গ্রিন ইলেকট্রিসিটি এবং থ্রিডি প্রিন্টিংয়ের মতো বিষয়গুলো ছিল। আর চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যেসব অনুষঙ্গ ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে, তাহলো আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, বিগ ডাটা, রোবটিক, ব্লক চেইনের মতো বিষয়গুলো। ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা, অনলাইন ফান্ড ট্রান্সফার, বিল পেমেন্ট দিনে দিনে জনপ্রিয় হচ্ছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিষয়গুলো ভোক্তা ও উত্পাদকের দূরত্ব কমিয়ে দেবে। বিশেষত তৈরি পোশাক খাতে এর ব্যবহার বাড়বে। এমনকি একজন কৃষকও এই কৌশল কাজে লাগাতে পারেন। মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উত্পাদন বাড়ানোর অনেক প্রযুক্তি নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসতে পারবেন। উত্পাদন ও সেবায় রোবটিকের ব্যবহার বাড়তে থাকলে কমতে থাকবে কর্মীর সংখ্যা। শিক্ষাক্ষেত্রেও তা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশে ২০১৮ সালে ফোরজি (চতুর্থ প্রজন্ম) মোবাইল ফোন ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরুর মাধ্যমে ডিজিটালাইজেশনে এক বড় অগ্রগতি সাধিত হয়। তা সত্ত্বেও ডিজিটাল বাংলাদেশ লক্ষ্য এখনো পুরো অর্জন হয়নি। বিশেষত সমাজের পিছিয়ে পড়া অংশ যদি এই সুবিধার বাইরে থেকে যায়, তাহলে এই লক্ষ্য অর্জন পিছিয়ে যাবে। উদ্ভাবনের ঘাটতি, সাইবার নিরাপত্তা পিছিয়ে থাকাসহ বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবন সহযোগিতা করতে পারে। সবমিলিয়ে এজন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সুসমন্বয় প্রয়োজন। গবেষণায় বলা হয়, এক্ষেত্রে সরকারের এক্সেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এজন্য প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদও উঠে এসেছে এতে।