মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
ভুল চিকিত্সায় সাজিদ হোসেন (৯) নামের শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাজিদ হোসেন তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। ভুল চিকিত্সায় সাজিদের মৃত্যুর পর হাসপাতালের মালিক, চিকিত্সক ও নার্স পালিয়ে গেছেন। গতকাল শনিবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের পৌরসভার বাওয়ারকুমারজানি রোডে দেওয়ান হাড়ভাঙ্গা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। ভুল চিকিত্সায় সাজিদের মৃত্যুর পর তার পরিবার ন্যায়বিচার চেয়েছে। তবে একটি চক্র মূল ঘটনা আড়াল করার জন্য মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
মির্জাপুর থানা পুলিশ সূত্র জানায়, শিশুপুত্র সাজিদের পিতার নাম মো. জুয়েল মিয়া। গ্রামের বাড়ি দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নের সশিনারা গ্রামে। সাজিদের পিতা জুয়েল মিয়া, তার মামা লাল চান অভিযোগ করেন, গত ৩ মার্চ বাড়িতে খেলতে গিয়ে সাজিদের বাঁ-হাত ভেঙে যায়। ৪ মার্চ তাকে চিকিত্সার জন্য দেওয়ান হাড়ভাঙ্গা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার চিকিত্সকগণ তার অপারেশন করেন। চিকিত্সকের পরামর্শে গতকাল শনিবার সকালে হাসপাতালের নার্স পিংকি শিশু সাজিদকে পর পর দুটি ইনজেকশন পুশ করেন। ইনজেকশন পুশ করার অল্প কিছুক্ষণ পরেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এ সময় পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে হাসপাতালে এক হূদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। সাজিদের মৃত্যুর পর পরই হাসপাতালের চিকিত্সক, মালিক ও নার্স পালিয়ে যান। আশপাশের শত শত লোকজন হাসপাতালে ভিড় জমায়।
এদিকে পুলিশ খবর পেয়ে সাজিদের লাশ থানায় নিয়ে যায়। একটি চক্র হাসপাতালের মালিক পক্ষের সঙ্গে আঁতাত করে সাজিদের মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, শিশুর লাশ উদ্ধার করে থানায় রাখা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত লাশ থানা চত্বরেই রয়েছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের মালিক দেওয়ান মো. মোতালেব হোসেন ও নার্স পিংকির সঙ্গে বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তারা পলাতক থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাদের সেলফোনও বন্ধ রয়েছে।
