‘আমরা তৃতীয় লিঙ্গ হলে প্রথম লিঙ্গ কারা?’

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২১, ২২:৪৮

ইত্তেফাক রিপোর্ট

‘আমরা তৃতীয় লিঙ্গ হলে প্রথম লিঙ্গ কারা?’—এমন প্রশ্ন করেছেন রূপান্তরিত নারী-পুরুষেরা। গতকাল শনিবার বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লিঙ্গ রূপান্তরিত/হিজড়া ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর মানুষেরা কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে জড়ো হয়ে এ প্রশ্ন করেন। সম্পর্কের নয়া সেতু এবং সচেতন সমাজসেবা হিজড়া সংঘ নামে দুটো সংগঠন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বাধীনতা, পরিচয়ের স্বচ্ছতাসহ বেশকিছু দাবিতে জোটবদ্ধ হন তারা। তারা বলেন, ‘রূপান্তরিত নারী-পুরুষদের তৃতীয় লিঙ্গ বলা হয়। আমরা যদি তৃতীয় লিঙ্গ হই তাহলে প্রথম লিঙ্গ কারা?’

তারা জানান, সমাবেশের উদ্দেশ্য ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের কথা এবং পরিচয় তুলে ধরা এবং বাক্স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা। তারা আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আমরা লিঙ্গ রূপান্তর/ হিজড়া ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর মানুষেরা আশা করছি, বর্তমান সরকার আমাদের স্বীকৃতি প্রদান করছে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এখন থেকেই লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় মানুষদের শোষণ বঞ্চনা থেকে মুক্তি এবং তাদের বাক্স্বাধীনতা আদায়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেবে, মানুষ হিসেবে আমাদের অধিকার তারা নিশ্চিত করবে।’

আয়োজকরা জানান, বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, গত ৫০ বছরেও রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত বিভিন্ন সরকার ঠিকভাবে আমাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি।

বক্তারা বলেন, এখনো আমরা প্রান্তিক।               পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে এখনো আমরা আমাদের বাক্স্বাধীনতা থেকে শুরু করে সব মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। এখনো আমরা কোথাও নিজেদের পরিচয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি না। পরিবারে আমাদের জায়গা দেওয়া হয় না, সমাজ আমাদের পরিচয় মেনে নেয় না, রাষ্ট্র আমাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করে না। এখন সময় এসেছে। গত অর্ধ শতাব্দী ধরে এই রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা শুধু লৈঙ্গিক পরিচয়ের কারণে নানা ধরনের অত্যাচারের মুখোমুখি হয়েছি। আর নয়। আমরা যাতে আমাদের নিজেদের পরিচয়ে বাক্স্বাধীনতাসহ অন্য সব মৌলিক অধিকার নিয়ে এক জন নাগরিক হিসেবে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।