বরগুনায় বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ, রোগীরা ঠাঁই নিচ্ছেন হাসপাতালের মেঝেতে

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২১, ০৫:৫৪

বরগুনায় হঠাৎ করে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীদের সামলাতে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে বরগুনা জেলা সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ১৯৮ জন রোগী বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

শনিবার (১৩ মার্চ) পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ৬২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে এ হাসপাতালে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে প্রয়োজনীয় বেড না থাকায় মেঝেতে ঠাঁই নিয়েছেন অনেকে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মার্চের শুরু থেকে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। প্রথম সপ্তাহে গড়ে ২০ জনের মত রোগী জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়। গত তিনদিনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গড়ে প্রতিদিন ৪০ জনে পৌঁছায় এবং সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় তা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ১ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত এ হাসপাতালে ২৩০ জন রোগী ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিয়েছেন এবং বর্তমানে ১৯৮ জন ভর্তি রয়েছে। 

হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, এ হাসপাতালের ডায়রিয়া বিভাগে মাত্র আটটি বেড রয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেড না থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে বিছানা পাততে বাধ্য হয়েছে।

শনিবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, এ হাসপাতালের নিচতলার মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। এদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু, নারী ও বৃদ্ধ। মেঝের নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে গাদাগাদি করে অবস্থান নিতে হয়েছে রোগীদের। এতে রোগীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।

মনিরুজ্জামান নামের এক রোগী জানান, তিনি ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বেড না থাকায় মেঝের নোংরা পরিবেশে তাকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

বরগুনা জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (আবাসিক) ডা. মো. সোহরাব উদ্দীন বলেন, এমনিতেই হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নেই, বেড নেই। এ অবস্থায় হঠাৎ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিপুল সংখ্যক রোগী ভর্তি হওয়ায় আমরা হিমশিম খাচ্ছি। এভাবে রোগী বাড়তে থাকলে দু’একদিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দেবে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি রোগীদের সু-চিকিৎসা নিশ্চিত করতে।

বরগুনার  সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান বলেন, গরমের মৌসুম শুরু হওয়ায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দারা অতটা স্বাস্থ্য সচেতন নয়, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকার কারণে রোগ জীবাণুর আক্রমণের শিকার হয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সেবা নিশ্চিতের জন্য আমরা সাধ্যমত চেষ্টা করছি।

ইত্তেফাক/এসজেড