১৯৭১ সালে দৈনিক ইত্তেফাক (১৪ মার্চ)

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২১, ১৯:২৪

সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরুর পর থেকে ইত্তেফাক হয়ে ওঠে গণমানুষের মুখপত্র।  বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিল পত্রিকাটি। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আপসহীনভাবে সত্য প্রকাশ করে গেছে ইত্তেফাক। পত্রিকাটির এই ভূমিকা উপমহাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।

স্বাধীনতার মাস অগ্নিঝরা মার্চে দৈনিক ইত্তেফাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৭১ সালের ১৪ মার্চ প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার মূল খবরের শিরোনাম ছিল, ‘উস্কানিমূলক কার্যকলাপ বন্ধ করুন’। সামরিক কর্তৃপক্ষের নতুন নির্দেশের জবাবে ১৩ মার্চ সংবাদমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই কথা বলেন। তার কথায়, ‘সামরিক আইনের আর একটি আদেশ জারি হয়েছে জানতে পেরে আমি বিস্মিত হয়েছি। আমি যখন খোদ সামরিক আইন প্রত্যাহারের জন্য ইতিমধ্যে বাংলার সমগ্র জনমানসের প্রচণ্ড দাবির কথা ঘোষণা করেছি, তখন নতুন করে এমন আদেশ জারি করা জনসাধারণকে উস্কানিদানেরই শামিল। যারা এ ধরনের আদেশ জারি করছেন তাদের এই সত্য উপলব্ধি করা উচিত যে, আজ জনসাধারণ তাদের ইস্পাত কঠিন সঙ্কল্পে ঐক্যবদ্ধ। এ ধরনের ভীতি প্রদর্শনের মুখে তারা কিছুতেই নতি স্বীকার করবে না।’

সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি উস্কানিমূলক তৎপরতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধু। তিনি বলেন, ‘জনসাধারণকে ভীতি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও তারা তাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। কারণ তারা জানে, ঐক্যবদ্ধ মানুষের এই শক্তির বিরুদ্ধে কোনো কিছুরই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সুযোগ নাই।’

মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর তর্জনী উঁচিয়ে রাখা একটি ছবির কাটআউট ব্যবহার করা হয়। প্রতিবেদনটির নিচে রাখা একটি খবরের শিরোনাম ছিল, ‘ভুট্টো-কাইয়ুমের দল ছাড়া পশ্চিমাঞ্চলেরও সব দলেরই এক কথা’। এতে উঠে আসে, লাহোরে ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত পশ্চিম পাকিস্তানের পাঁচটি পার্লামেন্টারি পার্টি নেতাদের সভায় দেশ থেকে সামরিক শাসন প্রত্যাহার, নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের কাছে দেশের শাসন ক্ষমতা হস্তান্তর ও বাংলাদেশে সশস্ত্র বাহিনীর গুলিবর্ষণের তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। সভায় যোগ দেয় কাউন্সিল মুসলিম লীগ, কনভেনশন লীগ, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম ও জমিয়তে ওলামায়ে পাকিস্তানের নেতারা। 

সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিস্তারিত আলোচনার পর প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খানের প্রতি অবিলম্বে বাংলাদেশে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতার সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিন ও বর্তমান অচলাবস্থা দূরীকরণের পন্থা উদ্ভাবনের জন্য অনুরোধ জানানো হয়। ওয়ালীপন্থী ন্যাপ আগেই শেখ মুজিবুর রহমানের শর্তের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেছে। ১৩ মার্চ পর্যন্ত পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও কাইয়ুমপন্থী মুসলিম লীগ ছাড়া পাকিস্তানের সব দলই বঙ্গবন্ধুর চার দফা দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

ইত্তেফাক/জেএইচ