উখিয়া বালুখালী রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৬ হাজার রোহিঙ্গার মধ্যে প্রায় ৫ হাজার রোহিঙ্গা ইউএনএইচসিআর প্রদত্ত রেশন সামগ্রী উত্তোলন করছে না গত ৪ মাস। তাদের দাবি দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত হয়েও তারা শরণার্থী মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তারা স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তাদের ছেলেমেয়েরা। এমন পরিস্থিতিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার জন্য উর্ধ্বতন মহলকে এগিয়ে আসার আহ্ববান জানিয়েছেন ক্যাম্প চেয়ারম্যান।
ইউএনএইসিআর প্রদত্ত রেশন উত্তোলন থেকে চার মাস ধরে বিরত রয়েছেন এমন কয়েকজন রেজি. রোহিঙ্গার মধ্যে কথা হয় সৈয়দ হোসেন (৪৫) এবং আব্দুর শুক্কুরের (৪০) সঙ্গে। তারা জানান, ‘এনজিও সংস্থা ব্রাক নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে রেজি. রোহিঙ্গাদের সম্বনয় করে তালিকা প্রণয়ন করছে। যা কোনোভাবে কাম্য নয়। এছাড়াও তারা অসুস্থতাজনিত কারণে রোগীদের নিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ক্যাম্পের বাইরে যেতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ছেলেমেয়েরা পড়ালেখা করতে পারছে না। এমনকি তারা ইচ্ছামত যেখানে-সেখানে যাওয়া আসা পর্যন্ত করতে পারছে না। এ সমস্ত কারনে তারা রেশন উত্তোলন থেকে বিরত রয়েছে।’
তবে ক্যাম্প চেয়ারম্যান রশিদ আহম্মদ বললেন ভিন্ন কথা। তিনি বলেন ‘সরকার তাদের আশ্রয় এবং যাবতীয় সেবামূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দীর্ঘ আড়াই বছর যাবৎ নিজের ছেলেমেয়ের মতো লালন পালন করে যাচ্ছেন। এ জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান’।
পক্ষান্তরে ইউএনএইচসিআর ও রেজি. রোহিঙ্গাদের মধ্যে সৃষ্ট বিভাজন ও রেশন নিয়ে মতবিরোধ নিরসনে এগিয়ে আসার জন্য উর্ধ্বতন মহলকে এগিয়ে আসার আহ্ববান জানান।
সূত্র জানায়, ১৯৯২ সালে সীমান্ত পার হয়ে প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা এদেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়। এসব রোহিঙ্গাকে সরকার মানবিক সেবা প্রদান করে কুটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করে। ২০০৪ সালে অজ্ঞাত কারনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াতে প্রায় ১৬ হাজার রোহিঙ্গা কুতুপালং ক্যাম্পে আটকা পড়ে যায়।
আরও পড়ুনঃ বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ১০ ডাক্তারের মধ্যে ৭ জনই অনুপস্থিত
কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ রেজাউল করিম জানান, ‘কিছু রোহিঙ্গা রেশন উত্তোলন থেকে বিরত থাকলেও বেশিরভাগ রোহিঙ্গা নিয়মিতভাবে রেশন গ্রহন করছে। ক্রমান্বয়ে অবশিষ্ট্য রোহিঙ্গারাও রেশন গ্রহন করতে বাধ্য হবে।’
ইত্তেফাক/নূহু

