গোলাম মোস্তফা আনছারী, স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ২৫টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিনের মধ্যে ১৩টি বিকল হয়ে আছে। এ কারণে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না চিকিত্সা নিতে আসা রোগীরা। এছাড়া পানি শোধনাগারও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। গত ১১ মার্চ দুপুরে নীলফামারী থেকে ডায়ালাইসিস করতে আসা ফিরোজ হোসেন চঞ্চল (৬০) জানান, সকাল ৬টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে পৌনে ৮টায় হাসপাতালে পৌঁছার পরেও দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তার ডায়ালাইসিস শুরু হয়নি। প্রতি সপ্তাহে দুই বার করে তার ডায়ালাইসিস করাতে হয়। রোগীর তুলনায় মেশিন কম থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মেলে না ডায়ালাইসিসের সেবা। যদিও সুযোগ আসে তাহলে চার ঘণ্টার জায়গায় দুই-আড়াই ঘণ্টায় ডায়ালাইসিস শেষ করতে হয়। সুযোগ না পেলে চিকিত্সা না নিয়েই বাড়ি ফিরে যেতে হয়।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কিডনি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ বি এম মোবাশ্বের আলম বলেন, ‘২০১২ সালে ১৫টি মেশিন নিয়ে কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট চালু হয়। পরে ২০১৭ সালে আরও ১০টি মেশিন সংযোজন করা হয়। ২৫টি মেশিনের মধ্যে ১২টি সচল থাকলেও তা পুরোপুরি কার্যকর নয়। টেকনিশিয়ান এসে মেরামত করতে চার-পাঁচ দিন সময় লাগে। এতে দুর্ভোগে পড়েন রোগীরা।’ তিনি আরো বলেন, ‘২০১২ সালে ক্রয়কৃত মেশিনের ওয়ারেন্টি ছিল এক থেকে দুই বছর। সেই মেশিন দিয়ে চলছে ৯ বছর।’ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘কিডনি ডায়ালাইসিসের ২৫টি মেশিনের মধ্যে ১২টি সচল। বাকি মেশিনগুলো মেরামত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন সবগুলোকে মেরামতের মাধ্যমে সচল করা হবে।’
