বন্যপ্রাণীর সঙ্গে বেড়ে ওঠা শিশুদের গল্প (পর্ব-৩)

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২১, ০৫:২৭

পিতা-মাতা কিংবা অন্য মানুষের সংস্পর্শ ছাড়াই বন-জঙ্গলে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠছে অনেক শিশু। এক্ষেত্রে বন্যপ্রাণীদের সংস্পর্শে থেকেই বড় হচ্ছে তারা এবং প্রাণীদের ভাষায় কথা বলছে ও তাদের আচার-আচরণগুলো আয়ত্ব করছে। এমনকি মানুষের স্বাভাবিক গুণাবলীগুলো তাদের মাঝ থেকে সম্পূর্ণরুপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কেউ হয়তো পরবর্তীতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। কিন্তু অধিকাংশই পারেনি।

আপনাদের এমন কয়েকজন শিশুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিবো। যারা ছোটবেলায় পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কিংবা হারিয়ে গিয়ে বন-জঙ্গলে প্রাণীদের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। পাঁচ পর্বের ধারাবাহিকে আজ থাকছে তৃতীয় পর্ব।

মেরিনা চ্যাপম্যান: ১৯৫৯ সালের দিকে কলম্বিয়ার নাগরিক এই নারী অল্প বয়সে অপহৃত হয়ে যান। এরপর থেকে জঙ্গলে বানর গোত্রের সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। নিজেকে রক্ষা করার জন্য সে বানরের আচরণ আয়ত্ব করে নেয়। এমনকি বানরগুলো তখন মেরিনাকে নিজেদেরই একজন বলে মনে করা শুরু করে এবং তারা একে অপরকে সাজিয়ে তোলে। পরবর্তীতে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় এবং বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।

রোমানিয়ান কুকুর বালক ট্রায়ান ক্যালদারার: বাল্যকালের ৩ বছর রাস্তায় জঘন্য পরিবেশে জীবন কাটিয়েছিল ট্রায়ান ক্যালদারার। শিশু অবস্থায় পরিবারের সদস্যদের দ্বারা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হতো সে। তাই মাত্র চার বছর বয়সেই পালিয়ে যায়। দীর্ঘ তিন বছর পর তাকে একটি মৃত কুকুরের পাশে পরে থাকা অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়। সে সময় শিশুটি কুকুরের মতোই আচরণ করছিল। শেষ পর্যন্ত সে তার মাকে খুঁজে পায় এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে সক্ষম হয়।

কম্বোডিয়ান জঙ্গল কন্যা রোচম পি’ইংয়েং: মাত্র আট বছর বয়সে মেয়েটি হারিয়ে যায়। এরপর টানা ২০ বছর জঙ্গলে বসবাস করেন। তার পিঠে একটি আঘাতের দাগ ছিল। সেটি দেখেই রোচমের পিতা তাকে শনাক্ত করতে পেরেছিল। তখন মাত্র কয়েকটি শব্দ তার মনে ছিল। মানুষের ভাষা সম্পূর্ণ ভুলে যায় সে। পরিবারের সদস্যরা তিন বছর ধরে চেষ্টা করেছিল তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। কিন্তু সম্ভব হয়নি। ২০১০ সালে মেয়েটি আবারও জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ইত্তেফাক/টিএ