সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরুর পর থেকে ইত্তেফাক হয়ে ওঠে গণমানুষের মুখপত্র। বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিল পত্রিকাটি। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আপসহীনভাবে সত্য প্রকাশ করে গেছে ইত্তেফাক। পত্রিকাটির এই ভূমিকা উপমহাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।
স্বাধীনতার মাস অগ্নিঝরা মার্চে দৈনিক ইত্তেফাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার মূল খবরের শিরোনাম ছিল, ‘জাতির ভাগ্য নির্ধারণী আলোচনা শুরু’। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকের খবর দেওয়া হয় এতে। বাংলার মুক্তিকামী জনতার সর্বাত্মক অহিংস আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ ঢাকার প্রেসিডেন্ট ভবনে ইয়াহিয়া ও বঙ্গবন্ধুর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। আড়াই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষে বাইরে এসে সমবেত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ মুজিব জানান, আজ সকাল ১০টায় তারা পুনরায় বৈঠকে বসবেন।

মূল প্রতিবেদনের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর একটি স্থিরচিত্র প্রকাশিত হয় ইত্তেফাকের ১৭ মার্চের প্রথম পাতায়। এর ক্যাপশনে লেখা, ‘দুই-এক মিনিটের ব্যাপার নয়, যথেষ্ট সময়ের প্রয়োজন। তাই আরও আলোচনা চলবে।’ প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
দৈনিক ইত্তেফাকের ১৭ মার্চের প্রথম পাতার অষ্টম কলামে ছাপা খবরের শিরোনাম করা হয়, ‘আজ শেখ মুজিবের ৫৩তম জন্মদিবস’।
ইত্তেফাক/জেএইচ
