চিংড়ি মাছ খেতে কার না ভালো লাগে। দেশের সিংহভাগ মানুষের খাদ্য তালিকায় প্রতিদিনই থাকে এই চিংড়ি মাছ। আর মানুষের এই চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু মুনাফালোভী ব্যবসায়ী ভেজাল দিয়ে বিক্রি করছে চিংড়ি মাছ। ওজন বাড়াতে চিংড়ি মাছের মাথায় ঢোকানো হচ্ছে ক্ষতিকর সিলিকা জেল। অতিরিক্ত লাভের আশায় ব্যবসায়ীদের এসব নয়া অপকৌশলে চিংড়ি মাছ কিনতে আসা ক্রেতারা না বুঝে একদিকে যেমন প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে পড়ছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। খাবার হিসেবে এই চিংড়ি মাছ ক্রমাগত হয়ে উঠছে এক নতুন মরণফাঁদ! মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এই সিলিকা জেল মানুষের লিভার ও কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন ধরে খেলে কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এছাড়া ফুসফুসের ক্ষতি হওয়াসহ শরীরে বিস্তার ঘটাতে পারে নানারকম রোগ। অসাধু মাছ ব্যবসায়ীরা নীরব ঘাতকের ভূমিকা নিয়ে অগণিত মানুষকে ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দেশের অধিকাংশ মানুষই জানে না মাছ ব্যবসায়ীদের ভেজালসংক্রান্ত এসব অপকৌশল সম্পর্কে। মাছে ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে রপ্তানি বা অভ্যন্তরীণ বাজারে বিক্রি করলে সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও এর বাস্তবায়ন ও কঠোর তত্পরতা খুব একটা চোখে পড়ে না। মাঝেমধ্যে এসব ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ও কিছু অর্থ জরিমানা করা হলেও এটি পুরোদমে নির্মূল হচ্ছে না। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা বিবেচনায় ভেজাল খাবারের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি অব্যাহতভাবে ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগ বাস্তবায়নে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ আশা করছি।
আরিফুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বন্দর কলেজ
