বঙ্গবন্ধুকে শি জিনপিং সুগা ও ট্রুডোর শ্রদ্ধা

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২১, ২৩:০৭

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা। গতকাল বুধবার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এই জাতীয় অনুষ্ঠানে পৃথক ভিডিও বার্তায় তারা বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেন, চীনের জনগণের পুরোনো এবং ভালো বন্ধু ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৫০ বছর আগে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি তার দেশ ও জনগণের জন্য নিজের জীবন উত্সর্গ করেছেন। বাংলাদেশের জনগণ তাকে গভীর ভালোবাসায় এখনো স্মরণ করে।

এই উত্সব পালনের জন্য সবাইকে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানিয়ে শি জিনপিং বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে চীন সফর করেছিলেন। চেয়ারম্যান মাও সে তুং ও প্রধানমন্ত্রী চৌ এনলাই এর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন। বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক তৈরিতে আগে যারা অবদান রেখেছিল তাদের সব সময় স্মরণ করা উচিত জানিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য এখন ভবিষ্যত্ প্রজন্মের হাতে তুলে দিতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে শি জিনপিং বলেন, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সংস্কার কার্যক্রম ও উন্নয়ন এগিয়ে যাচ্ছে এবং প্রবৃদ্ধির চাকা দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। একটি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের এই উন্নতিতে চীন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ককে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দেই। প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এ বিষয়ে কাজ করব, যাতে করে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হয়। বর্তমান সম্পর্ককে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া যায়।

ভিডিওবার্তায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেন, আমি যখন আমার বাবার সঙ্গে বাংলাদেশ সফর করেছিলাম, ঐ সময় থেকে বাংলাদেশে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে। এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, দারিদ্র্যতা কমেছে, শিক্ষার হার বেড়েছে এবং স্বাস্থ্য সেবার প্রসার ঘটেছে। এর ফলে দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। একজন ব্যক্তির কারণে  যে ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন সম্ভব সেটি শেখ মুজিবুর রহমান করে দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমানের ভিশন বাস্তবে পরিণত হয়েছে, কারণ তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন মানুষকে।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আজকে আমরা উত্সব করতে পারছি শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক একটি দেশ গড়ার ভিশনের কারণে। এটি সম্ভব হয়েছে এদেশের মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার জন্য। আমার পিতার সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের দৃঢ় সম্পর্ক ছিল। ঐ সময় থেকে দুই দেশ দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখছে।

তিনি বলেন, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আমূল রূপান্তর হয়েছে এবং এই পথযাত্রায় কানাডা অংশীদার হিসেবে আছে। আমরা বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রেখেছি এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নে সহায়তা করছি। শিশুস্বাস্থ্য ও শিক্ষা, যুব সম্প্রদায়ের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কাজে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কানাডা।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োশিহিদে সুগা তার বার্তায় বলেন, বাংলাদেশ ও জাপানের পতাকার সঙ্গে মিল রয়েছে। জাপানের পতাকাকে মাথায় রেখে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের পতাকা চিন্তা করেছিলেন বলে আমার মনে হয়। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু মনে করতেন জাপানের উন্নয়ন মডেল অনুসরণযোগ্য। জাপানের জনগণের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি দৃঢ় উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

বর্তমান সম্পর্ক নিয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে জাপানি শিশুরা ত্রাণ সংগ্রহের জন্য যেমন অত্যন্ত পরিশ্রম করেছে, তেমনি ১০ বছর আগে যখন জাপানে একটি বড় ভূমিকম্প হয় তখন বাংলাদেশ ত্রাণ দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি বলেন, বিশ্বাস, সহযোগিতা ও উভয়ের জন্য মঙ্গলজনক এই তিনটি জিনিসের ওপর ভিত্তি করে আমাদের প্রথাগত সম্পর্ক এখন আরো দৃঢ় ও মজবুত হয়েছে।

বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে আরো বৃদ্ধি পাবে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী সুগা বলেন, এই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা এখন আমাদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য আইনের শাসন ও কানেকটিভিটির ওপর ভিত্তি করে একটি স্বাধীন ও উন্মুক্ত ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হলে তা শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে জাপান।