জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট কন্যা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা বলেছেন, আমাদের পরিবারের কত যে স্মৃতি। কত মধুর, কত বেদনার আমাদের এই জীবন ছিল। মধুর স্মৃতি মনে হলে বুকটা তৃপ্তিতে ভরে যায়। আর বেদনার স্মৃতিতে চোখের পানি ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়। আজ আব্বার জন্মদিন তাই কষ্ট বা দুঃখের কথা না হয় নাই বলি।
বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে রাজধানীর একটি স্কুলে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থেকে তিনি এসব কথা বলেন। ৩৮ মিনিটের এই বক্তব্যে তিনি তার পিতা মুজিবের মূল্যায়নের পাশাপাশি তাদের পারিবারিক জীবনের নানা গল্প তুলে ধরেন। শিক্ষার্থীদের সামনে উপদেশ মূলক বক্তব্যও দেন তিনি। শেখ রেহানা বলেন, এখন এমন একটা সময়ে তোমাদের সামনে কথা বলছি যখন বৈশ্বিক মহামারি আছে। তবে ভয় পেলে চলবে না, ভয়কে জয় করতেই হবে। সর্ব শক্তিমান আল্লাহ আমাদের সহায়।
শেখ রহানার বক্তব্যে টুঙ্গিপাড়ায় সুবজ-শ্যামল পরিবেশে শেখ মুজিবের জীবনের অংশও ফুটে ওঠে। পিতা মুজিবের দুরন্তপনা, মধুমতির ঘোলাজলে গ্রামের ছেলেদের সাথে সাঁতার কাটা, দল বেঁধে হা-ডু-ডু, ফুটবল, ভলিবল খেলার প্রসঙ্গও আসে এই বক্তব্যে। বঙ্গবন্ধুর এই ছোট কন্যার ভাষ্য, ‘বাবা ছিলেন দস্যি বালকদের নেতা। তখন কে জানত এই দস্যি বালকদের নেতাই একদিন বিশ্বনেতা, বাঙালি জাতির পিতা হবেন’?
জাতির পিতার শৈশবের কথা তুলে ধরে শেখ রেহানা বলেন, শৈশব থেকেই খোকা (মুজিব) ছিল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ ও দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী। গ্রামের মাটি ও মানুষ তাকে যেমনটা আকর্ষণ করতো, তেমনি তিনিও গ্রামের মাটি ও মানুষকে ভালোবেসেছিলেন পরম মমতায়। পক্ষান্তরে তাকেও সবাই আপন সন্তানের মতো বিশ্বাস করতো ও ভালোবসতো। শেখ রেহানা বলেন, দশ বছর বয়সেই তিনি নিজের গায়ের জামা খুলে অন্যকে দান করে কিশোর শেখ মুজিব, এ যেন মানবতার অনন্য উদাহরণ। শিশুকাল থেকেই শেখ মুজিব ছিলেন পরোপকারী ও অন্যায়ের প্রতিবাদী। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দেখলেই তিঁনি যেমন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন, তেমনি কোনো অন্যায় অবিচার দেখলেই প্রতিবাদ করতেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন বলেন, একবার তার গ্রামের চাষিদের ফসল নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কৃষকদের অনেক বাড়িতেই দু’বেলা ভাত রান্না বন্ধ হয়ে যায়। সারা গ্রামেই প্রায়-দুর্ভিক্ষাবস্থা। কিশোর মুজিব এ রকম পরিস্থিতিতে কিছু করার জন্য তিনি ছটফট করছিলেন। পরে নিজের পিতাকে তিনি তাদের গোলা থেকে বিপন্ন কৃষকদের মধ্যে ধান বিতরণের জন্য অনুরোধ জানালেন। তাদের নিজেদের ধানের মজুদ কেমন, এই অনুরোধ তার বাবা রাখতে পারবেন কিনা, সেসব তিনি ভাবেননি। কৃষকদের বাঁচিয়ে রাখার চিন্তাটিই ছিল তখন তার কাছে মুখ্য। এই বক্তব্যে শেখ রেহানা তাদের শৈশব, কৈশোর ও পরিণত জীবনের নানা স্মৃতিও তুলে ধরেন ।
