পিতা-মাতা কিংবা অন্য মানুষের সংস্পর্শ ছাড়াই বন-জঙ্গলে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে অথবা গৃহস্থালীয় পশু-পাখিদের খাঁচায় বেড়ে উঠছে অনেক শিশু। এক্ষেত্রে বন্যপ্রাণীদের সংস্পর্শে থেকেই বড় হচ্ছে তারা এবং প্রাণীদের ভাষায় কথা বলছে ও তাদের আচার-আচরণগুলো আয়ত্ব করছে। এমনকি মানুষের স্বাভাবিক গুণাবলীগুলো তাদের মাঝ থেকে সম্পূর্ণরুপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কেউ হয়তো পরবর্তীতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। কিন্তু অধিকাংশই পারেনি।
আপনাদের এমন কয়েকজন শিশুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিবো। যারা ছোটবেলায় পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কিংবা হারিয়ে গিয়ে বন-জঙ্গলে প্রাণীদের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। পাঁচ পর্বের ধারাবাহিকে আজ থাকছে চতুর্থ পর্ব।
জন সসেবুনিয়া: আফ্রিকার দেশ উগান্ডার নাগরিক এই শিশুর গল্পটি প্রথম জনসম্মুখে তুলে আনেন ফটোগ্রাফার জুলিয়া ফুলারটোন বেটনস। বাল্যকালে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ও খুনি বাবার কাছ থেকে দূরে পালিয়ে যায় সে। এরপর টানা তিন বছর জঙ্গলে একদল বানরের সঙ্গে বসবাস করে। ১৯৯১ সালে তাকে সেখান থেকে খুঁজে পায় স্বেচ্ছাসেবীরা। সে সময় শিশুটি বানরের মতোই আচরণ করতো। সৌভাগ্যক্রমে পরবর্তীতে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
রাশিয়ান কন্যা মেডিনা: জন্মের পর থেকেই পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে শিশুটিকে। তার বাবা ও নেশাগ্রস্থ মায়ের দ্বারা নিয়মিতই নির্যাতনের শিকার হতো। এমন পরিস্থিতিতে সে গৃহপালিত কুকুরদের সাথে সময় কাটাতে পছন্দ করতো এবং দিনের অধিকাংশ সময় তাদের আস্তাবলেই থাকতো। শিশুটির যখন তিন বছর বয়স তখন তাকে সমাজকর্মীরা খুঁজে পায় এবং সেফ হোমে নিয়ে আসেন। সৌভাগ্যক্রমে মানসিক এবং শারীরিক উভয় দিক দিয়েই তাকে সুস্থ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ভয়ংকর শিশুকালকে কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়।
সুজিত কুমার: ওশেনিয়া অঞ্চলের দেশ ফিজির নাগরিক এই লোকটি। বাল্যকালেই তার বাবা মারা যান। এরপর তার দাদা তাকে পাখির খাঁচায় বন্দি করে রাখেন। আট বছর বয়সে তাকে সেখান থেকে মুক্ত করা হয়। তখন সে মানবিক গুণাবলিগুলো হারিয়ে ফেলে এবং পাখির মতো আচরণ করতো ও মুরগীর মতো আওয়াজ দিতো।
ইত্তেফাক/টিএ
