সরকারি অর্থে উন্নয়ন-কাজে কিভাবে সর্বোচ্চ রোজগার করা যায়, সে উদ্দেশ্যে এক শ্রেণির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশলী ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্পূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ নকশা করে সেটা পাশ হলে কাজ শুরু করে। কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর কাজে সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে উন্নয়ন-কাজ বন্ধ করে দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নকশায় ক্রটি আছে বলে এটা সংশোধন করার জন্য সময় ও অর্থ বাড়ানোর জন্য আবেদন করে টাকার পরিমাণ ও সময় বাড়িয়ে থাকে। এরপর কাজ আরো কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর আবার সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আরো কিছু প্রয়োজনীয় কাজ না করলে নির্মাণ করা অবকাঠামো ব্যবহার করার উপযোগী হবে না। এর জন্য আবার সময় ও অর্থ বাড়ানো প্রয়োজন। এভাবে একের পর এক অজুহাত তুলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকৌশলীর কাজ যত বেশি বিলম্ব হয়, তত বেশি টাকা আসে। ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোগ সড়ক বাদ দিয়ে নকশা তৈরি করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার পর যখন ব্রিজ চালু করা সম্ভব হয় না, তখন এর সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা ছাড়া ব্রিজ চালু সম্ভব নয় বলে আবার সংযোগ সড়কের জন্য নতুন পরিকল্পনা করে নতুন করে সড়কের নকশা তৈরি করার জন্য প্রকৌশলীর প্রয়োজন পড়ে। এভাবে সবার ফন্দিতে কাজে বিলম্ব করার কারণে সময় অপচয় হয়ে রাষ্ট্র, জনগণ, সরকারের নজির বিহীন ক্ষতিসাধন হয়ে থাকে। অনুরূপ অবস্থা বেসরকারি অবকাঠামো ব্যক্তিগত অবকাঠামো বাড়িঘর নির্মাণের বেলায় হয়ে থাকে। অযৌক্তিক কারণে সময় ও ব্যয় বাড়লে এর দায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। নকশা ত্রুটিপূর্ণ ও অসম্পূর্ণ হলে এর পুরো দায় প্রকৌশলীর। আর ঘাটে ঘাটে কমিশন দেওয়ার কারণে উন্নয়ন ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। এ প্র্যাকটিস বন্ধ হওয়া উচিত।
আব্বাস উদ্দিন আহমদ
ধোপাদিঘির দক্ষিণ পাড়, সিলেট ৩১০০
