ভোগান্তিতে যাত্রীরা
হাতিয়া (নোয়াখালী) সংবাদদাতা
হাতিয়ার মেঘনায় নাব্য সংকটে নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। কয়েক মাস ধরেই এ নাব্য সংকট চলছে বলে যাত্রীরা জানিয়েছেন। এতে যাত্রীদের ভোগান্তিসহ মালামাল পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে।
দেখা গেছে, মেঘনায় নাব্য সংকটে সম্প্রতি একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ আটকে যায়। এছাড়া জানা গেছে, নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া থেকে বাইরের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌপথ। প্রতিদিন শত শত মালবাহী নৌযান ও যাত্রীবাহী লঞ্চ-স্টিমার হাতিয়া উপজেলার তমরদ্দি ঘাট ও বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট থেকে চলাচল করে। কিন্তু নাব্য সংকটের কারণে গত চার মাস ধরে এসব নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে মালামাল আমদানি-রপ্তানি প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার হাতিয়া তমরদ্দি বাজার ব্যবসায়ী ইব্রাহিম হাজি জানান, ডুবচর ও নাব্য সংকটে তমরদ্দি ঘাট থেকে লঞ্চ প্রায় ৮-১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করে। এতে নৌকা করে ঘাট থেকে লঞ্চে মালামাল ওঠানামা করানো যেমনি ব্যয়বহুল, তেমনি নৌকায় মালামাল আনা-নেওয়ার ঝুঁকিও বেশি। একই অবস্থা বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাটে। যাত্রীদেরও সীমাহীন দুর্ভোগে লঞ্চে চলাচল করতে হচ্ছে। উত্তাল মেঘনায় ছোট ছোট নৌকায় যাত্রী ও মালামাল পরিবহন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি নাব্য সংকটে স্পিডবোট চলাচলও বন্ধ হওয়ার উপক্রম। দ্রুত সময়ে ড্রেজিং ব্যবস্থা চালু করা না হলে হাতিয়ার সঙ্গে বাইরের যাত্রী পারাপার বন্ধ হয়ে পড়বে। একইভাবে হাতিয়ার মালামাল আমদানি-রপ্তানিও বন্ধ হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডুবোচর নিয়ে সার্ভে করে দেখা গেছে, মেঘনার ঐ স্থানে বড় ধরনের ড্রেজিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। সে অনুযায়ী একটি ড্রেজিং-ইঞ্জিন পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সন্দ্বীপের কাছে সেটি বিকল হয়ে পড়ে। তাই আগামী বর্ষার আগে কাজ ধরা যাবে না বলে মনে হচ্ছে।’
নাব্য সংকটে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘এ ব্যাপারে ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
