বইমেলা এখন আমাদের জাতীয় উত্সব। সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। বিশ্বব্যাপী কোভিড পরিস্থিতির কারণে এ বছর বইমেলা হবে কি হবে না, তা নিয়ে বেশ সংশয় ছিল। সব সংশয় কাটিয়ে অবশেষে ১৮ মার্চ থেকে শুরু হলো বইমেলা। ইতিহাসে এই প্রথম অমর একুশে বইমেলা পেছানো হলো। তাতে মেলার গুরুত্ব কমে যায়নি। মার্চ তো আমাদের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি মাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কারণে এবারের মেলা আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে।
‘পরিস্থিতি যা-ই হোক, আমি সব সময় চেয়েছি বইমেলা হোক। কারণ কোভিড পরিস্থিতির কারণে দেশে কোনো কিছুই থেমে নেই। মিল-কারখানা খোলা, মার্কেটগুলো খোলা, যানবাহন চলছে, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ আর নির্বাচন চলছে, ধর্মসভাগুলোও চলছে। সবই যখন চলছে, বইমেলা চললে অসুবিধা কোথায়? বইমেলা তো জ্ঞানের মেলা। সবকিছু খোলা রেখে জ্ঞানের মেলা বন্ধ রাখার তো কোনো মানে নেই। সব বন্ধ থাকলে, দেশ লকডাউনে থাকলে অবশ্যই বইমেলাও বন্ধ থাকত। শেষ পর্যন্ত বইমেলা আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’
এবারে আরো একটি সংশয় ছিল বইমেলায় লোক সমাগম হবে কি না, তা নিয়ে। আশা জাগানিয়া ব্যাপার হচ্ছে, বইমেলার প্রথম দিনই এই সংশয় কেটে গেছে। প্রথম দিনেই প্রচুর দর্শনার্থী, পাঠক, লেখক মেলায় এসেছেন। মেলার পরিসর এবার অনেক বড়, তাই এত লোক হওয়া সত্ত্বেও খুব একটা ভিড় হয়নি। পরিসর যদি গতবারের মতো হতো, তবে রীতিমতো প্রবেশপথে দীর্ঘ লাইন পড়ে যেত।
অনেকে গুজব ছড়াচ্ছেন বইমেলা নাকি যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। হ্যাঁ, কোভিড পরিস্থিতি যদি অবনতির দিকে যায়, সরকার যদি দেশে আবার লকডাউন দেয়, স্বাভাবিক কারণে বইমেলাও বন্ধ করা হবে। তাছাড়া বইমেলা মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হোক, আমরা তা চাই না। যারা এ ধরনের গুজব ছড়াচ্ছেন, তারা কোন উদ্দেশে ছড়াচ্ছেন জানি না। বইমেলায় যারা আসছেন তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনেই আসছেন। সবাই মাস্ক ব্যবহার করছেন। প্রবেশ পথগুলোতে প্রত্যেকের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। রয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থাও। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মানলে একটি সুন্দর বইমেলা সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
এবারের বইমেলার বিন্যাস, সাজসজ্জা খুবই নান্দনিক। বাংলা একাডেমির সহযোগিতায় স্থপতি লেখক এনামুল করিম নির্ঝর তার সর্বোচ্চ মেধার প্রয়োগ করেছেন একটি নান্দনিক বইমেলা উপহার দেওয়ার জন্য। স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোর মাঝখানে পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়েছে, যাতে ভিড় লেগে না যায়। এখন বৃষ্টি-বাদলের দিন। বৃষ্টি এলে মেলায় মানুষ যাতে নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারে, সেজন্য একাধিক আশ্রয়কেন্দ্রও নির্মাণ করা হয়েছে। এবার নতুন সংযোজন করা হয়েছে শিখা চিরন্তনের পাশে একটি গেট। চাইলে মানুষজন ঐ গেট দিয়েও মেলায় ঢুকতে পারবে। আশা করি, নির্ধারিত দিন পর্যন্ত বইমেলা চলবে, সুন্দরভাবে বইমেলা সম্পন্ন হবে। সারা দেশ থেকে পাঠক লেখক প্রকাশকরা আসবেন। মেলা উদ্যাপনে মেতে উঠবেন। শুভ বইমেলা।
লেখক : কথাসাহিত্যিক
