পিতা-মাতা কিংবা অন্য মানুষের সংস্পর্শ ছাড়াই বন-জঙ্গলে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে অথবা গৃহস্থালীয় পশু-পাখিদের খাঁচায় বেড়ে উঠছে অনেক শিশু। এক্ষেত্রে বন্যপ্রাণীদের সংস্পর্শে থেকেই বড় হচ্ছে তারা এবং প্রাণীদের ভাষায় কথা বলছে ও তাদের আচার-আচরণগুলো আয়ত্ব করছে। এমনকি মানুষের স্বাভাবিক গুণাবলীগুলো তাদের মাঝ থেকে সম্পূর্ণরুপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কেউ হয়তো পরবর্তীতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে। কিন্তু অধিকাংশই পারেনি।
আপনাদের এমন কয়েকজন শিশুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিবো। যারা ছোটবেলায় পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কিংবা হারিয়ে গিয়ে বন-জঙ্গলে প্রাণীদের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। পাঁচ পর্বের ধারাবাহিকে আজ থাকছে শেষ পর্ব।
ইভান মিশুকভ: রাশিয়ার নাগরিক এই শিশু মাত্র চার বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে চলে যায়। রাস্তায় সে কুকুরদের সাথে থাকতে পছন্দ করতো। এমনকি কুকুর দলের নেতাও হয়ে ওঠে। বন্য কুকুরদের সাথে তার মিথোজীবী সম্পর্ক ছিল। সে তাদের খাদ্য সংগ্রহ করায় সহায়তা করতো এবং বিনিময়ে কুকুরগুলো তাকে নিজেদের কাছে ঘুমাতে দিতো। শিশু আশ্রয় কেন্দ্র কর্তৃক তাকে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত সে অন্তত ২ বছর এভাবে ছিল।
শিম্পাঞ্জি বালক বেলো: নাইজেরিয়ার নাগরিক এই শিশুটি কঠোর মানসিক ও শারীরিক সমস্যা নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তার পিতা-মাতা ফুলানী উপজাতির অংশ ছিল। যেখানে প্রতিবন্ধী শিশুদের বন-জঙ্গলে ছেড়ে দেয়া স্বাভাবিক ব্যাপার। তার পরিবারও একই কাজ করে। তখন শিম্পাঞ্জি তাকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং লালনপালন করতে থাকে। সে মাত্র এক বছর উপজাতিদের সাথে বসবাস করেছিল। পরবর্তীতে স্বেচ্ছাসেবীরা তাকে উদ্ধার করলেও কখনো আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ২০০৫ সালে তার মৃত্যু হয়।
নেকড়ে বালক দিনা সানিচর: ভারতীয় নাগরিক এই শিশুকে মাত্র ছয় বছর বয়সে একদল নেকড়ের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। এরপর তাকে এতিমখানায় নিয়ে আসায় হয়। সেখানেই সে বাকি জীবন অতিবাহিত করে। বালকটি মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারলেও কখনো কথা বলা শিখতে পারেনি। তাকে মানসিক বিকারগ্রস্ত হিসেবে গণ্য করা হতো।
ইত্তেফাক/টিএ
