মো. কবির হোসেন (সুজন), প্রভাষক, ব্যবস্থাপনা বিভাগ
নিকুঞ্জ মডেল কলেজ, ঢাকা
প্রিয়, এইচএ সি পরীক্ষার্থীবৃন্দ, অনুশীলন বিভাগে তোমাদের স্বাগতম। তোমাদের সুবিধার্থে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ের দ্বিতীয়পত্র হতে কিছু অনুধাবনমূলক প্রশ্ন উত্তরসহ উপস্থাপন করা হলো। আশা করি তোমাদের সংগ্রহে থাকবে।
০১. কার্য বিভাজনের নীতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:প্রতিষ্ঠানের মোট কাজকে প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে প্রত্যেকের দায়িত্ব কর্তব্য সুস্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট করার নীতিকে কার্য বিভাজনের নীতি বলা হয়।
নীতি হলো প্রতিষ্ঠিত সত্য বা নির্দেশক যা সবাই মেনে চলে। কার্য বিভাজনের নীতি হলো এমন একটি নীতি যা কার্য পালনের সুবিধার্থে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করা হয়। এতে কার্যটি সম্পাদনে জটিলতা দেখা দেয় না। এর ফলে কর্মী তার কাজ, কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা বুঝে নিয়ে সেভাবে কাজ করতে পারে। তাই কার্য সম্পাদনের সুবিধার্থে, জবাবদিহিতার সুবিধার্থে বড় বড় কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। এটিই কার্যবিভাজন।
০২. আদেশের ঐক্যের নীতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:কোনো অধস্তনের যদি আদেশদাতা একজন মাত্র নির্বাহী বা ঊর্ধ্বতন হয়ে থাকেন এবং অধস্থন যদি সেই অনুযায়ী কাজ করতে পারেন তবে সেই আদেশকে আদেশের ঐক্য বলা হয়।
কোনো অধস্তন একজন মাত্র ঊর্ধ্বতন এর নিকট থেকে সরাসরি আদেশ লাভ করলে এবং তার কাজের জন্য ঊর্ধ্বতনের নিকট জবাবদিহি করলে কাজের শৃঙ্খলা ফিরে আসে। কারণ একাধিক উর্ধ্বতনের নিকট হতে আদেশ লাভ করলে দ্বৈত অধীনতার কারণে তার কাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয় এবং কাজ ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। এই জন্য ব্যবস্থাপনায় একজন মাত্র আদেশ দাতার নিকট হতে আদেশ পাওয়ার বিষয়ের উপর নীতি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।
০৩. জোড়া মই শিকল নীতি বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: প্রতিষ্ঠানের উপর থেকে শুরু করে একেবারে নিচ পর্যন্ত প্রতিটি ব্যক্তি বিভাগ উপবিভাগকে একে অন্যের সাথে যুক্ত করে দেওয়াকে জোড়া মই শিকল বলা হয়।
একটি প্রাতিষ্ঠানিক শিকলের মধ্যে সবাইকে আবদ্ধ করাকে জোড়া-মই শিকল নীতি বলা হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের যে কোনো পর্যায়ে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা ঊর্ধ্বতন সহজে জানতে পারে এবং দ্রুত সমাধান করতে পারে। তাই হেনরি ফেওয়েলের মতে, জোড়া মই-শিকলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সব বিভাগকে একত্র করতে পারলে কাজ আদায় সহজ হয়।
০৪. বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গতানুগতিকতা পরিহার করে বিজ্ঞান বা পরীক্ষা নিরীক্ষা ও বিচার বিশ্লেষণের আলোকে সংঘবদ্ধ জ্ঞানের প্রয়োগকেই বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা বলা হয়।
টেইলর বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার জনক। এই ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু আদর্শ রয়েছে। আদর্শ সমূহের মধ্যে রয়েছে টিপসহি পদ্বতির পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক উপায়ে কর্মী নির্বাচন, প্রশিক্ষণদান ও উন্নয়ন, সৌহার্দ্যপূর্ণ শ্রম ব্যবস্থাপনা সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা, ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিক কর্মীদের মধ্যে দায়িত্ব ও কর্তব্যের সুষ্ঠু বণ্টন। টেইলর এই গবেষণার মাধ্যমে কার্যক্ষেত্রে পদ্ধতিগত উন্নয়নের উপর জোর দেন। অর্থাত্ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটাতে চান।
০৫. শৃঙ্খলার নীতি বলতে কি বুঝায় ?
উত্তর: যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য স্থানে এবং সঠিক বস্তুকে সঠিক স্থানে স্থাপনের নীতিকে শৃঙ্খলার নীতি বলা হয়।
এখানে শৃঙ্খলা বলতে উপায়-উপকরণের শৃঙ্খলাকে বুঝানো হয়েছে। প্রায়ই দেখা যায় ব্যক্তির যোগ্যতা ও মেধার চাইতে ব্যক্তিগত সর্ম্পক,রেফারেন্স ইত্যাদির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানে যেমন কাজের
গতিশীলতা বৃদ্ধি পায় না তেমনি প্রতিষ্ঠানে অদক্ষতা দেখা দেয়। তাই কাজের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শৃঙ্খলার
নীতি অনুসরণ করা হয়।
০৬. ব্যবস্থাপকের দক্ষতা বলতে কী বোঝায়?
উত্তর:ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা বলতে ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কাজগুলো সঠিকভাবে, সঠিক সময়ে ও স্বল্প ব্যয়ে সম্পাদন করাকে ব্যবস্থাপকীয় দক্ষতা বলা হয়।
ন্যূনতম শক্তি, অর্থ, সামর্থ্য ও সম্পদকে কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানিক লক্ষ্য অর্জনের বিষয়টি একজন আদর্শ ব্যবস্থাপকের দক্ষতার উপর নির্ভরশীল। ব্যবস্থাপকের এরূপ দক্ষতা তার কতিপয় জ্ঞান, গুণ ও সামর্থ্যের সাথে সম্পর্কযুক্ত। ব্যবস্থাপকের এই সব গুণ বা দক্ষতা প্রতিষ্ঠানিক দক্ষতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। তাই নিজের কাজ সঠিক সময় পালন করতে পারাকেই ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বলা হয়।
