স্পোর্টস রিপোর্টার
নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন যেন ধাঁধা, যার জট খুলতে পারছে না বাংলাদেশ দল। ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন, প্রস্তুতি ক্যাম্পের পরও কন্ডিশনের রহস্য ভেদ করা গেল না, দুর্বোধ্যই থেকে গেল। অতীতের মতোই কঙ্কালসার পারফরম্যান্সে ডুবন্ত বাংলাদেশ।
ম্যাচের আগে প্রস্তুতির পরিপূর্ণতা নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিল অধিনায়ক তামিম ইকবালের কণ্ঠ। গতকাল ডানেডিনের ইউনিভার্সিটি ওভালের ২২ গজে তামিমের সেই আত্মবিশ্বাস অসাড় প্রমাণিত হয়েছে। জঘন্য ব্যাটিংয়ের সঙ্গে পরিকল্পনার গলদও ফুটে উঠেছে সফরকারীদের পারফরম্যান্সে।
আগের সিরিজেই ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বরের নির্ভরতা নাজমুল হোসেন শান্তকে ছুড়ে ফেলা হয়েছে একাদশ থেকে। উইন্ডিজদের বিরুদ্ধে ‘অলরাউন্ডার’ কোটার খেলোয়াড় সৌম্য সরকারকে তুলে আনা হয়েছে তিনে। তামিম-ডমিঙ্গোর পরিকল্পনাকে ব্যর্থতায় ঢেকে দিয়ে সৌম্য উইকেটে স্থায়ী হয়েছেন মাত্র তিন বল।
অবশ্য ম্যাচ শেষে গতকাল ডানেডিনে ৮ উইকেটে বড় হারের জন্য ব্যাটসম্যানদেরই দুষেছেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। স্কোরবোর্ডে জমা করা ১৩১ রান হতাশা জাগিয়েছে তার মনেও। বলেছেন, এই রান করার মতো দল নয় বাংলাদেশ।
ম্যাচে সফরকারীদের জন্য ইতিবাচক কিছুই নেই। স্বীকারোক্তি ছিল তামিমের কণ্ঠেও, ‘সত্যি কথা বলতে এই ম্যাচ থেকে পজিটিভ কোনো কিছুই নাই নেওয়ার।’
সকালে টসে হেরে ব্যাটিং করাটা সহজ ছিল না। তবে কন্ডিশনের চেয়ে নিজেদের আউটের ধরন পুড়িয়েছে তামিমকে। বাংলাদেশ অধিনায়ক বরেছেন, ‘এখানে ৩-৪টা ডিসমিসাল খুবই সফট ছিল। যেগুলো আমরা আশা করি না। যেটা আমি বললাম, আমরা আমাদের ব্যাটিং নিয়ে অনেক গর্ব করি। আর ১৩১ রান করলে, ১৩১ রান করার মতো আমাদের টিম না, যতই কঠিন অবস্থানই থাকুক না কেনো। অবশ্যই আমরা ভালো খেলিনি, ভুল শট সিলেকশন ছিল দেখেই ১৩১ রান করেছি।’
সৌম্যর ওপরে ব্যাটিং করা সম্পর্কে তামিম বলেছেন, কন্ডিশন অনুযায়ী সৌম্যই ব্যাটিংয়ে তিনের জন্য দলের প্রথম পছন্দ ছিল। পিঠের ব্যথার কারণে মাহমুদউল্লাহ বোলিং করতে পারছেন না, সৌম্য তাই ষষ্ঠ বোলারের ভূমিকায়ও ছিলেন।
এমন হতশ্রী পারফরম্যান্স, বড় হারের ধাক্কা কাটিয়ে উঠার চ্যালেঞ্জ থাকবে ক্রাইস্টচার্চে। ২৩ মার্চ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়াতে করণীয় সম্পর্কে তামিম বলেছেন, ‘এই অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে, আমাদের অন্তত ২৬০-২৭০ রান করতে হবে, বোলারদের ডিফেন্ড করার জন্য কিছু দিতে হলে। আমাদের জন্য এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ টপ ফাইভ থেকে একজন বড় রান করা।’
