কালীগঞ্জ (গাজীপুর) সংবাদদাতা
কালীগঞ্জ পৌর শহরের মুনশুরপুর গ্রামের মৃত তমিজউদ্দিন খন্দকারের ছেলে শরীফুল ইসলাম। বয়স যখন দুই/তিন বছর তখন তার বাবা মারা যান। মা রাজিয়া বেগম ছেলেকে মানুষ করার জন্য নেন অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ। সেভাবেই ছেলেকে মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করান। পরে অর্থাভাবে তাও বন্ধ হয়ে যায়। তাই শিশু বয়সেই শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে শরীফ। কয়েক বছর আগে বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে ডান পা হারায় শরীফ। গেল বছর হারায় মাকেও। মা-বাবা, ভাইবোন ও এক পা হারানো শরীফ চারদিকে অন্ধকার দেখে। কী করবে ভেবে পায় না।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কিছু করতেও পারছে না সে। কিন্তু উপায়ন্তর না পেয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়ায় নিয়ে চালানো শুরু করে। এক দিন তার প্রতিবেশী এক চাচার মাধ্যমে কালীগঞ্জ স্বদেশি-প্রবাসী কল্যাণ ফোরামের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ হয়। পরে সেই সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ডাক্তার মোহাম্মদ ওয়াদুদুজ্জামান ভুঁইয়ার আর্থিক সহায়তায় সংগঠনের পক্ষে কৃত্রিম পা সংযোজনের ব্যবস্থা করা হয়। শুধু শরীফই নয়, একই ব্যক্তির আর্থিক সহায়তায় সংগঠনের পক্ষে ছয় কিশোর-তরুণের কৃত্রিম পা সংযোজন করা হয়। এরা হলো—উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের শহিদুল্লাহর ছেলে মো. শিপন মিয়া, বেরুয়া গ্রামের মো. ওয়াসিম ফকিরের ছেলে মো. নাদিম ফকির, কালীগঞ্জ পৌর এলাকার চৌড়া গ্রামের মো. নিজামের ছেলে সোহান মিয়া, একই এলাকার বাঙ্গালহাওলা গ্রামের কিরণ মিয়ার ছেলে তামিম হোসেন, মোক্তারপুর ইউনিয়নের পোটান গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রিফাদ।
তারা জানান, পঙ্গু জীবন নিয়ে অনেক জায়গায় অনেক প্রতিবন্ধকতায় পড়তে হয়েছে। নিজের কাজ নিজে করতে পারতেন না। চলাফেরাও ছিল অস্বাভাবিক। কিন্তু কালীগঞ্জ স্বদেশি-প্রবাসী কল্যাণ ফোরামের উদ্যোগে কৃত্রিম পা সংযোজনের পর এখন ক্রাস ছাড়া নিজের কাজ নিজে করতে পারি। চলাফেরায়ও স্বাভাবিকতা ফিরে এসেছে।
এখন আর তাদের কারো হাস্যরসের শিকার হতে হয় না। কালীগঞ্জ স্বদেশি-প্রবাসী কল্যাণ ফোরামের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ডাক্তার মোহাম্মদ ওয়াদুদুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, ভবিষ্যতেও তিনি এমন সহায়তা অব্যাহত রাখবেন। এমন সহায়তায় সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান তিনি।
