ময়মনসিংহে রাস্তার পাশে রাইস মিলের ফেলে রাখা ছাইয়ের আগুনে দগ্ধ শিশু

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২১, ২২:২৯

৫ দিন ধরে ঢাকা মেডিক্যালে, কাতরাচ্ছে যন্ত্রণায়

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

পাঁচ দিন ধরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দগ্ধ শরীর নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে ১১ বছরের শিশু আরাফাত হোসেন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার শ্রীপুর গ্রামে নানাবাড়ি বেড়াতে গিয়েছিল সে। সেখানে গত সোমবার বিকালে রাস্তার পাশে একটি অটো রাইস মিলের ফেলে রাখা পরিত্যক্ত ছাইয়ের ঢিবিতে খেলতে যায় আরাফাত। কে জানত সেখানে ছাইচাপা আগুন ধিকি ধিকি করে জ্বলছে! ছাইয়ের ঢিবিতে লাফ দিয়ে পড়তেই অগ্নিদগ্ধ হয় আরাফাত, পুড়ে যায় শিশুটির শরীরের প্রায় ৫০ শতাংশ। ঘটনার পর গুরুতর আহত শিশু আরাফাতকে প্রথমে ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। আহত আরাফাত হোসেন ফুলবাড়িয়ার কৈয়ারচালা গ্রামের সিএনজি অটোরিকশা চালক আয়নাল হকের ছেলে।

আরাফাতের মামা জামাল উদ্দিন মোবাইল ফোনে জানান, দিন দিন আরাফাতের অবস্থার অবনতি ঘটছে। ডাক্তার বলেছে সে এখনো শঙ্কামুক্ত নয়, তার শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাচ্ছে। আজ পাঁচ দিন হয়ে গেলেও যারা আমার ভাগনের এই অবস্থার জন্য দায়ী (অটো রাইস মিল কর্তৃপক্ষ) তারা একবারও খোঁজ নিল না। আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য সুরুজ বাঙ্গালী, নিয়ত আলীসহ অনেকেরই অভিযোগ, বাকতা ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে সরকার অটো রাইস মিল কর্তৃপক্ষ রাস্তার পাশে ছাইয়ের স্তূপ দায়সারাভাবে ফেলে রাখে যাতে প্রায়শই আগুন থাকে। ছাইয়ের ঢিবিতে খেলতে গিয়ে শিশু আরাফাতের শরীরের নিচের অর্ধেক অংশ আগুনে পুড়ে যায়। রাইস মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পরিবেশ বিনষ্ট করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। মিল কর্তৃপক্ষ দায়সারাভাবে মিলে জমে থাকা আগুনসহ ছাই রাতের আঁধারে ট্রাকে করে এনে সড়কের পাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ফেলে রাখে। এ পর্যন্ত পাঁচ-ছয় জন শিশু ছাইয়ে নেমে অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। মিল কর্তৃপক্ষকে ছাই অন্যত্র ফেলতে বললেও তারা তাদের কথায় কান দেয় না। উলটো হুমকি দেয়। স্থানীয় চেয়ারম্যান ফজলুল হক মাখনও বলেন, ‘সড়কের পাশে ছাই ফেলতে নিষেধ করেছি। মিল মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় আমার কথায় কর্ণপাত করেন না।’

মিল মালিক আবুল কালাম সরকার জানান, প্রতি বছর একবার মিল থেকে ছাই অন্যত্র সরানো হয়। মিলের ছাই সড়কে ফেলার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল সিদ্দিক বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।