সপ্তাহে মাত্র তিন দিন সেবা দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত তিন জাহাজ!

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২১, ২৩:০৫

একসময়ে ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিসি) নৌযানগুলো সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অবস্থানে থাকলেও সময়ের ব্যবধানে এখন মাত্র তিনটি স্টিমার সার্ভিসে রয়েছে। এর ফলে সপ্তাহের মাত্র তিন দিন সরকারি নৌযানের সেবা পান যাত্রীরা। আর সপ্তাহের বেশির ভাগ দিনই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ সরকারি নৌযানের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিআইডব্লিউটিসির ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যাত্রী পরিবহনের জন্য পাঁচটি জাহাজের মধ্যে বর্তমানে সার্ভিসে রয়েছে—এমভি মধুমতি, পিএস টার্ন ও লেপচা প্যাডেল স্টিমার। আর এমভি বাঙালি ও মধুমতি মেরামতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ডকইয়ার্ডে পড়ে রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত এসব প্যাডেল স্টিমারগুলোকে ঐতিহ্য, পর্যটন মৌসুমে নিরাপদ যাত্রী পরিবহনের কথা                 বিবেচনায় রেখে ট্রিপে রাখা হলেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় সবগুলো স্টিমার একসঙ্গে সার্ভিসে থাকতে পারছে না। বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমভি বাঙালি বেসরকারি ডকইয়ার্ডে এবং মাহসুদ নিজস্ব ডকইয়ার্ডে মেরামত করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ সার্ভিসে আসবে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফলে ঢাকা থেকে সপ্তাহে সোম, বুধ ও বৃহস্পতিবার এবং শনি, বুধ ও শুক্রবার দক্ষিণাঞ্চলের মোড়েলগঞ্জ থেকে যাত্রী পরিবহন করছে সংস্থার এমভি মধুমতি, পিএস টার্ন ও লেপচা।

বরিশাল-ঢাকা নৌরুট লাভজনক হওয়ায় বেসরকারি লঞ্চ কোম্পানি একের পর এক বিলাসবহুল লঞ্চ বহরে যুক্ত করলেও সরকারি জাহাজ বিকল হয়ে সার্ভিস বন্ধ থাকছে। সরকারি জাহাজের অব্যবস্থাপনা, সময়সূচিতে যাত্রীদের বিড়ম্বনা, বেহাল ঘাট ব্যবস্থাপনা, তিন শ্রেণির বেহাল কেবিনের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ থাকে না। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে যাত্রী আকর্ষণে বিলাসবহুল লঞ্চ কোম্পানিগুলো লঞ্চ যুক্ত করে যাত্রী সেবা দিয়ে থাকলেও সাধারণ মানুষ সরকারি জাহাজের যাত্রীসেবা থেকে বঞ্চিত। অথচ সরকারি স্টিমারের জন্য ব্যবহূত ঘাটের সর্বত্রই থাকে নোংরা পরিবেশ। সরকারি স্টিমার নৌ টার্মিনালে না থাকায় বিলাসবহুল লঞ্চের পাশাপাশি লক্কড়-ঝক্কড় লঞ্চগুলোও যাত্রী পরিবহনে বাড়তি ভাড়া আদায় করে থাকে।

বিআইডব্লিউটিসির বরিশালের সহ-মহাব্যবস্থাপক এ কে এমরান জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা জাহাজ চাঁদপুর, বরিশাল, ঝালকাঠী, কাউখালী, হুলারহাট, চরখালী, বড় মাছুয়া, সন্ন্যাসী ও মোড়েলগঞ্জে যাত্রী পরিবহন করে। এ রুটে নিয়মিত যাত্রীরা জানিয়েছেন, একসময়ে খুলনা পর্যন্ত সরকারি সার্ভিস থাকলেও বর্তমানে কেবল মোড়েলগঞ্জ পর্যন্ত চলাচল করে। আর মোড়েলগঞ্জ পর্যন্ত বর্তমানে একমাত্র সরকারি জাহাজই যাত্রী পরিবহন করে থাকে। কিন্তু সপ্তাহে মাত্র তিন দিন সার্ভিসে থাকায় মোড়েলগঞ্জ থেকে যাতায়াতকারী যাত্রীরা বাকি দিনগুলোতে নৌপথে যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন না। মোড়েলগঞ্জ থেকে বেসরকারিভাবে কোনো নৌযান চলাচল না থাকায় সরকারি সার্ভিস বন্ধের দিন যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই বছর আগে ঐতিহ্যবাহী প্যাডেল স্টিমার পিএস অস্ট্রিচ এবং ২০১৬ সাল থেকে এমভি সোনারগাঁও রাজধানীর সন্নিকটে পানশালায় পরিণত হওয়ায় মুখ থুবড়ে পড়ে যাত্রীসেবা। সরকারি সার্ভিস ক্রমেই কমতে থাকায় বেসরকারি নৌযানের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা।

বরিশাল জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার বলেন, রাষ্ট্রীয় সার্ভিস সমূহের বরিশালের প্রধানগণের সঙ্গে যাত্রীসেবা নিশ্চিতে সভা আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় যাত্রীসেবা নিশ্চিতে যা যা করণীয় সেসব বিষয়ে বরিশালের গণমাধ্যম-কর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে।