শিরিনকে ২০০ মিটারে হারালেন সোহাগী
স্পোর্টস রিপোর্টার
বিকেএসপির জহির রায়হান ২০০ মিটারে সোনা জিতলেও আক্ষেপ থেকেই গেল। কেননা একটুর জন্য রেকর্ড করতে পারেননি এই অ্যাথলিট। তাই অন্যদের পেছনে ফেলে ২০০ মিটারের ফিনিশিং লাইন পার হয়েও মনে বেদনা রেখেই হাসতে হচ্ছিল তাকে।
সোনার পদক জয় করলেও রেকর্ড না হওয়ায় হাপিত্যেশ করছিলেন। ১৮০ মিটার এসে একটু থামতে গিয়ে পিছিয়ে পড়েন। না থেমে শেষ স্টেপগুলো দিয়ে ফেললেই সোনার পদকের সঙ্গে রেকর্ডটাও হয়ে যেতে পারত। ৪০০ মিটার স্প্রিন্টের পর কাল ২০০ মিটারেও সোনার পদক জয় করলেন জহির।
দৌড় শেষ করে কথায় কথায় বলছিলেন, ‘রাতে ঘুম হয়নি। কোনো কারণ ছিল না। তারপরও ঘুম না হওয়াটা ক্ষতি হয়েছে জহিরের। বলছিলেন বার বার উঠে পানি খেয়েছি।’ বাস্তবতা হচ্ছে আগেরদিন ৪০০ মিটার দৌড় শেষ করে পরদিন কিভাবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে ট্র্যাকে নামবেন অ্যাথলিট।
বাংলাদেশে এটাই হচ্ছে। ৪০০ মিটার শেষ করে তিনদিন বিশ্রাম প্রয়োজন। আরেকটি ইভেন্টে নামার আগে প্রস্তুতির দরকার আছে। এমনটাই জানালেন জহির। তিনি বলেন, ‘মাত্র ২৪ ঘণ্টা ব্যবধানে ইভেন্ট খেলতে হয়।’ কিভাবে ভালো হবে তা নিয়ে শঙ্কা জহিরের, ‘আমি টায়ার্ড না হলে ২০০ মিটারেও রেকর্ড করে ফেলতাম।’
জহিরের টাইমিং হলো ২১.৭৯ সেকেন্ড। আর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অ্যাথলেট মাহবুব আলম এবং গোলাম আম্বিয়ার জহিরের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থানে।
শিরিন সুলতানা এবং সোহাগী আক্তার নৌবাহিনীর অ্যাথলেট। দুজন একই দলের হলেও দুই জনের মধ্যে দূরত্ব অনেক। শিরিন সিনিয়র হলেও সোহাগীর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় ট্র্যাকে। কেউ কাউকে জানতেও পারেন না। কারণ দুজন দুই জায়গায় অনুশীলন করেন। সোহাগী যেমন তার দল নৌবাহিনীতে অনুশীলন করেন। আর শিরিন বিকেএসপিতে।
শিরিনকে ১০০ মিটারে হারাতে না পারলেও কাল ২০০ মিটারে হারিয়ে শান্তি পেয়েছেন সোহাগী। ২০০ মিটার স্প্রিন্টে ইলেকট্রনিক টাইমিংয়ে সোহাগী সময় নিয়েছেন ২৫.০৬ সেকেন্ড। ২০১৩ সালে জাকিয়া সুলতানা সময় নিয়েছিলেন ২৫.১৩ সেকেন্ড। অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন বলছে জাতীয় রেকর্ড হয়েছে। আর ফেডারেশনের আগের রেকর্ডের পাতায় রয়েছে হ্যান্ডটাইমিংয়ে ২০০ মিটার স্প্রিন্টে নাজমুন নাহার বিউটিকে (২৪.৩০) টপকাতে পারেননি সোহাগী।
