আশা বাঁচিয়ে রাখছে সিলেট সিক্সার্স

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৩৯

স্পোর্টস রিপোর্টার

আট ম্যাচে ছিল দুটি জয়। সঙ্গে ডেভিড ওয়ার্নারের চলে যাওয়া, কয়েক দফা অধিনায়ক পরিবর্তন মিলে সিলেট সিক্সার্স খুব ভালো অবস্থানে ছিল না। প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে থাকতে শেষ চার ম্যাচের সবক’টি জেতার চ্যালেঞ্জ নিয়ে চট্টগ্রামে গিয়েছিল সিলেট। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অলক কাপালির দল। বন্দরনগরীতে প্লে-অফ মিশনের অর্ধেকটা সফলভাবেই শেষ করেছে দলটি।

তুলে নিয়েছে টানা দুটি জয়। ১০ ম্যাচে সিলেটের জয় এখন চারটি। গতকাল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে নিজেদের দশম ম্যাচে খুলনা টাইটান্সকে ৫৮ রানে পরাজিত করেছে সিলেট। চট্টগ্রামে জয়ের ধারাবাহিকতায় নিজেদের আশা বাঁচিয়ে রাখছে দলটি এবং জমিয়ে দিচ্ছে বিপিএল। কাপালি বাহিনীর জয়ের ধারা অব্যাহত থাকলে প্লে-অফের সমীকরণে কিছুটা ওলট-পালট হবে। সম্ভাবনার পাল্লায় সিলেটকে তাই পিছিয়ে রাখা যাবে না। তবে পরের দুই ম্যাচের একটি হারলেই অবশ্য তারা বাদ পড়বে সেরা চারের লড়াই থেকে।

চট্টগ্রামে আগামী ৩০ জানুয়ারি রাজশাহী কিংসের বিরুদ্ধে খেলবে সিলেট। ১ ফেব্রুয়ারি শেষ ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের মুখোমুখি হবে অলক কাপালির দল। দু’দলের বিরুদ্ধে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম সাক্ষাতে জিতেছিল সিলেট। প্লে-অফে খেলার দাবি টিকিয়ে রাখতে এ দুটি ম্যাচ জিততেই হবে তাদের।

সাগরিকার রান স্বর্গে আগে ব্যাট করে চার উইকেটে ১৯৫ রানের বড় স্কোর গড়ে সিলেট। ওপেনিং জুটিতে লিটন দাস ও আফিফ হোসেন বড় রানের ভিত গড়ে দেন। তাদের জুটি বিচ্ছিন্ন হয় ৭১ রানে। তাইজুলের শিকার হওয়ার আগে লিটন ২২ বলে ৩৪ রান করেন। হাফ সেঞ্চুরি করতে পারেননি আফিফও। ৩৭ বলে ৪৯ রান করে তাইজুলের বলে আল-আমিনের হাতে ক্যাচ দেন এই বাঁহাতি। সুবিধা করতে পারেননি জ্যাসন রয় (১) ও নিকোলাস পুরান (১২)। ১০৬ রানে চার উইকেট হারানো সিলেটের হয়ে বাকি পথটা পাড়ি দেন সাব্বির রহমান ও মোহাম্মদ নওয়াজ। তারা ৮৯ রানের জুটি গড়েন। ২৯ বলে ৪৪ রান করে অপরাজিত ছিলেন সাব্বির। ২১ বলে অপরাজিত ৩৯ রান করেন নওয়াজ। খুলনার তাইজুল তিনটি, জুনায়েদ খান একটি উইকেট পান।

হারের বৃত্তে ঘুরপাক খুলনার জন্য ১৯৬ রানের টার্গেট পাড়ি দেয়া কঠিন কর্মই ছিল। ভঙ্গুর ব্যাটিং লাইন নিয়ে লড়াইটা জমাতে পারেনি খুলনা। ১৮.১ ওভারে ১৩৭ রানে অলআউট হয়েছে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী তাসকিনের শিকার হন। তিনি ২০ রান করেন। ব্রেন্ডন টেইলরের সঙ্গে আল-আমিনের ৩৭ রানের জুটি ভাঙেন সোহেল তানভীর। আল-আমিন ফিরেন ১৬ রান করে। নাজমুল হোসেন শান্তর (৩) ব্যাট হাসেনি এদিনও। ইনিংস সর্বোচ্চ ৩৪ রান করে টেইলর সাজঘরের পথ ধরেন নাবিল সামাদের শিকার হয়ে।

মিডল অর্ডারে আরিফুল-মাহমুদউল্লাহ কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আস্কিং রানের চাপ সামলাতে না পেরে দু’জনই আউট হয়েছেন। আরিফুল ২৪, মাহমুদউল্লাহ ১১ রান করেন। পরে আর কেউ দু’অঙ্কের ঘরও স্পর্শ করতে পারেননি। সিলেটের নাবিল সামাদ তিনটি, তাসকিন আহমেদ দুটি, কাপালি, নওয়াজ, এবাদত হোসেন, সোহেল তানভীর একটি করে উইকেট নেন। সিলেটের নওয়াজ ম্যাচ সেরা হন। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

সিলেট সিক্সার্স: ২০ ওভারে ১৯৫/৪

খুলনা টাইটান্স: ১৮.১ ওভারে ১৩৭

ফল: সিলেট সিক্সার্স ৫৮ রানে জয়ী