সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বদলে যাওয়া দেশে পরিণত হয়েছে। এর ভিত্তি রচনা করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। গতকাল রবিবার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্যাপন অনুষ্ঠানমালার পঞ্চম দিনের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যে ১০ দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি। রবিবার পঞ্চম দিনের আলোচনার প্রতিপাদ্য ছিল ‘ধ্বংসস্তূপে জীবনের গান’। এ বিষয়ে স্বাগত বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। আলোচনা পর্বে জর্ডানের বাদশার পক্ষে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। ওবায়দুল কাদের বলেন, ইতিহাসের মহাফলকে অবিরাম যার নাম লেখা হয় তিনি বঙ্গবন্ধু। হাজার বছরের পূর্বপুরুষদের পরাজয়ের শোধ নিয়েছিলেন তিনি।
সেতুমন্ত্রী বলেন, দেশকে স্বাধীন করার পর নতুন সংগ্রাম শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করেন। দেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত ছুটে বেড়িয়েছেন। বুকজুড়ে ৫৪ হাজার বর্গমাইল ফুলে ফুলে শোভিত করতে তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে তার কূটনৈতিক তত্পরতার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু ছুটেছেন দেশ থেকে দেশে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায় ও বন্ধু তৈরিতে মনোনিবেশ করেন বঙ্গবন্ধু। তার কূটনৈতিক দক্ষতা বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে দেশকে পুনর্গঠন করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশকে বিরাণভূমিতে পরিণত করেছিল। হাছান মাহমুদ বলেন, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নানা সংকট থাকলেও বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞাময় নির্দেশনায় দেশ পুর্নগঠিত হতে থাকে। তিনি মাত্র ৯ মাসে আমাদের পবিত্র সংবিধান প্রণয়ন করেন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা ছিল বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। তার পথ ধরে তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সময়ের আগেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে ছিল বন্ধু রাষ্ট্র চীনের সাংস্কৃতিক আয়োজন। আরো ছিল ‘মুজিব চিরন্তন’ প্রতিপাদ্যের ওপর টাইটেল অ্যানিমেশন ভিডিও, ক্যানভাসে বঙ্গবন্ধুর সাড়ে তিন বছর: শূন্য থেকে মহাশূন্যে, বঙ্গবন্ধুর নবজীবনের ডাক: ধূসর বাংলা থেকে সবুজ বাংলা, বিশ্বনেতা ও বিশ্বনাগরিকের সঙ্গে মেলবন্ধন, নারী জাগরণ ও নারীর ক্ষমতায়নে বঙ্গবন্ধু, শিশু বিকাশে বঙ্গবন্ধু: আলো আমার আলো (১০০ জন শিশু শিল্পীর পরিবেশনা) প্রভৃতি।
আজ সোমবার ষষ্ঠ দিনের আয়োজনের প্রতিপাদ্য ‘বাংলার মাটি আমার মাটি’। জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যাদেবী ভান্ডারি।
