দুই খণ্ডে সম্পূর্ণ মহাভারত। প্রথম খণ্ডে ১০৬৩ পাতা, দ্বিতীয় খণ্ডে ১২৬৩ পাতা! বই দুটির ওজন একসঙ্গে পাঁচ কেজি থেকে একটু কম! আমি তখন চাটমোহরে চাকরি করি। ২০০৬ বা ২০০৭। কথা প্রসঙ্গে জানলাম টুকুন ভাইয়ের ব্যক্তিগত গ্রন্থশালা ‘শব্দ খোয়ার’-এ অনেক বই আছে। একদিন অফিসে টুকুন ভাইকে বললাম, আপনার কাছে মহাভারত আছে? টুকুন ভাই হ্যাঁ, না কিছু না বলে শুধু বললেন, আপনি মহাভারত পড়বেন? যদ্দুর মনে পড়ে বলেছিলাম চোখে দেখতে ইচ্ছে করছে। এর প্রায় মাস তিনেক পর টুকুন ভাই একদিন বিশাল কলেবরের বই দুখানা একটা ব্যাগের মধ্যে পুরে অফিসে হাজির। বললেন, ব্যাগটা হাতে নিন। হাতে নিয়ে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। এত ভারী বই! টুকুন ভাই ইন্ডিয়া থেকে আনিয়ে দিয়েছেন, তাই দেরি হলো বললেন। তারপর বই হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করি, কিন্তু মনে হলো প্রবেশদ্বার রুদ্ধ। মাথামুণ্ডুু কিছুই বোধগম্য হচ্ছিল না। কিছুদিন পর টুকুন ভাইকে বই দুটি ফেরত দিতে চাইলাম; মৃদুভাষে বললেন, থাকুক আপনার কাছেই। একবার তো আমার এক ধর্মপরায়ণ হিন্দু কলিগকে বলেই ফেলেছিলাম, আমার কাছে মহাভারত আছে, পড়া হয়নি, আপনি চাইলে আমি আপনাকে বই দুটি দেব। কেন জানি কী মায়ায় বই দুটি তাঁকে দেওয়া হয়নি।
এরপর অনেক দিন বয়ে গেল। বই দুটো বইয়ের তাকেই ছিল। আমি যেন কোন ইন্দ্রলোক থেকে ডাক শুনতে পেলাম। কবিতার ডাক। এতকাল গল্পই পড়ে এসেছি। কবিতা দুর্বোধ্য মনে হতো। কবিতা পড়তে শুরু করার পর থেকে দু লাইন পড়েই একবার করে অভিধান খুলি। একদিন তো আমার ছেলে বলেই ফেলল—মা, তুমি তো বাংলা পড়ছ, তো এত কেন ডিকশনারি দেখ? কবিতার শব্দ খু্ঁজতে খুঁজতে আবিষ্কার করলাম, শব্দগুলোর শাব্দিক অর্থের বাইরেও ব্যাপ্তি আছে, অনেক শব্দের বর্ণনায় ঘুরেফিরে মহাভারতের রেফারেন্স আসে। মনে হলো মহাভারত তাহলে হাতে নেওয়ার সময় এসেছে। মই বেয়ে বইয়ের তাকের সবচেয়ে ওপরের তাক থেকে নামিয়ে আনলাম মহাভারত। যেতে হবে বহুদূর! ২৩৫৫ পাতার অভিযানে আমি কেবল ২৭৩ পাতায়। কালীপ্রসন্ন সিংহ অনূদিত মহাভারত। মূল মহাভারত বেদব্যাস সংস্কৃত ভাষায় লিখেছেন।
সুপ্তি জামান
