ফরিদগঞ্জের মাদ্রাসায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান!

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৯, ২২:১০

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) সংবাদদাতা

শ্রেণিকক্ষের অভাবে ফরিদগঞ্জে বালিথুবা সামছুলিয়া অদুদীয়া মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে। ১৯৯৪ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সরকারি অর্থে অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি।

২০০১ সালে এমপিওভুক্ত হওয়া এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকটের কারণে ৫ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীর লেখাপড়া হুমকির মুখে রয়েছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বোর্ড পরীক্ষায় ফলাফল ভালো হওয়া সত্ত্বেও এমপিভুক্ত হওয়ার ১৮ বছর  পেরিয়ে গেলেও অদৃশ্য কারণে এ প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন হয়নি।

সরেজিমনে দেখা যায়, মাদ্রাসা মাঠের দক্ষিণ পাশে খোলা আকাশের নিচে পাশাপাশি তৃতীয়, ৬ষ্ঠ ও ৭ম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান করছেন তিনজন শিক্ষক। তিনটি শ্রেণির শিক্ষার্থীদের একই সাথে উচ্চৈঃস্বরে পাঠদান ও যানবাহনের বিকট শব্দে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনোসংযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল। মাঠের পশ্চিমপাশে মসজিদের ২য় তলায় ইবতেদায়ি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীদের পাঠদান করছিলেন শিক্ষক।

মাঠে ৬ষ্ঠ শ্রেণির আরবি বিষয়ের ক্লাস নিচ্ছিলেন শিক্ষক মাও. হারুনুর রশিদ। তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, ‘খোলা আকাশের নিচে সকালে ঠান্ডা ও দুপুরে প্রচণ্ড গরম থাকে। এতে করে শিশু শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। খোলা স্থানে একইসাথে তিন শ্রেণির পাঠদান চলমান থাকায় তারা মনযোগ দিয়ে পাঠগ্রহণ করাতে পারে না।

মাদ্রাসা সুপার মো. মাহাবুবুর রহমান সংকটের কথা তুলে ধরে এ প্রতিনিধিকে বলেন, মাদ্রাসায় ব্যবহার উপযোগী মাত্র দুটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। বাকি ৪টি কক্ষ ২০১০ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া বিভিন্নজনের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে টিনশেডের ৩টি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হচ্ছিল। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তাও সম্ভব হচ্ছে না। সামনের বর্ষা মৌসুমে কিভাবে শ্রেণি কার্যক্রম চালাবো এনিয়ে আমরা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।

মাদ্রাসার সভাপতি আব্দুল আজিজ এ প্রতিনিধিকে বলেছেন, এই এলাকার বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বর্তমান সাংসদ মুহম্মদ শফিকুর রহমানের আন্তরিক সহযোগিতায় ২০০১ সালে মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হয়। আমি সমগ্র এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা নির্বিঘ্ন করতে নতুন একটি বহুতল ভবন নির্মাণের দাবি করছি।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলী আফরোজ এ প্রতিনিধিকে বলেন, সংসদ সদস্যের ডিও লেটার নিয়ে আবেদন করলে অবশ্যই এই প্রতিষ্ঠানে একটি নতুন ভবন হবে। এ মুহূর্তে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ যদি যোগাযোগ করে তাহলে আমি জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার এ প্রতিনিধিকে বলেন, এ সমস্যার কথা কেউ আমাদের জানায়নি। তবে এখন যখন জেনেছি দ্রুত এই সমস্যা সমাধান করা হবে।