দেশে প্রথমবারের মতো ভার্টিক্যাল ফ্লোটিং বেড পদ্ধতি উদ্ভাবন

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২১, ২২:২৮

উল্লম্ব ভাসমান খামারে একক স্থান থেকে অধিক ফসল উত্পাদন করে ক্রমহ্রাসমান ভূমির ওপর চাপ কমানোর এক অভিনব প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে সিলেটে কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদ। এই পদ্ধতি প্রয়োগ করলে খাদ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। ভূমির ওপর চাপ কমবে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চাষযোগ্য জমির পরিমাণ দিনে দিনে হ্রাস পাওয়ায় এবং ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য এই পদ্ধতি কার্যকর। হাওরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলে বছরব্যাপী কৃষিকাজ অব্যাহত রাখবে এই পদ্ধতি। সদ্য উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তিতে উচ্চফলনশীল লালশাক চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তারা। এই পদ্ধতির উদ্ভাবক সিলেটে কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন এবং কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রাশেদ আল মামুন। তার সঙ্গে রয়েছেন বিভাগের অপর দুই শিক্ষার্থী আসিফ আল রাযী নাবিল ও সাদিয়া আশরফি ফাইরুজ।

 বিশেষ করে বর্ষায় জলাবদ্ধতার কারণে সারা দেশে প্রায় ৩০ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকে। ঐ সময়  কর্মসংস্থানেরও সুযোগ থাকে না। শাক-সবজি ও অন্যান্য খাদ্যের সংকট দেখা দেয়।  উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বন্যাক্রান্ত অঞ্চলে বদ্ধ পানির ওপর কাঠামোটি ভাসিয়ে কৃষকেরা অনায়াসেই চাষাবাদ করতে পারবেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর কাঠামোটি শুকনো অনাবাদি জমির ওপর স্থাপন করা যায়। সম্পূর্ণ অব্যবহার্য জলাবদ্ধ ভূমির ওপর কাঠামোটি স্থাপনের পর কয়েকটি উল্লম্ব স্তরে চাষাবাদ করার ফলে কম জায়গায় অধিক ফল আসে, যা গতানুগতিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে পাওয়া অসম্ভব। সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য উপাদান দিয়ে তৈরি এই কাঠামো দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যাবে।

প্রযুক্তিটি সম্পর্কে গবেষকেরা জানান, চট, বাঁশ, সিপিভিসি পাইপ এবং পানির ড্রাম ব্যবহার করে তারা একটি বিশেষ কাঠামো তৈরি করেন, যাতে পাঁচ ফুট দৈর্ঘ্য এবং দুই ফুট প্রস্থের তিনটি উল্লম্ব স্তর রয়েছে। স্তরগুলো চার ইঞ্চি পুরুত্বের মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। প্রতিটি স্তরের মধ্যে দুই ফুট করে ফাঁকা যায়গা রাখা হয়েছে, যাতে করে উত্পাদিত চারাগাছগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে আলো-বাতাস পায়। পুরো কাঠামোটি তিনটি পানির ড্রাম ব্যবহার করে পানির ওপরে ভাসানো হয়। গবেষকেরা আশা প্রকাশ করেন, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকেরা অধিক ফলন ঘরে তুলতে পারবেন,  যা দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।