সিরাজগঞ্জে যমুনায় চর নৌ-চলাচল ব্যাহত

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২১, ২২:৩৪

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পাওয়ায় নদীতে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর ও ডুবোচর। এ কারণে যমুনা নদীর বিভিন্ন  রুটে নৌ-চলাচল দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জেলার কাজীপুর নৌকা ঘাট, এনায়েতপুর নৌকা ঘাট, মেঘাই নৌকা ঘাট থেকে প্রতিদিন মেছড়া, বড়শিমুল, আপনাদীঘি, চৌহালী উপজেলা সদর, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, খাসরাজবাড়ী, চরগিরিশি, মনসুরনগর, তারাকান্দি, সিরাজগঞ্জ, সহড়াবাড়ী, রূপসার চরে পাঁচ শতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা যাতায়াত করে। তবে শুস্ক মৌসুম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে নদীর নাব্য কমে চর জেগে ওঠায় নৌ যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক বেশি পথ ঘুরে নৌকাগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এতে ইঞ্জিনের তেল খরচ ও সময় দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। ফলে যাত্রী ভাড়া ও মালামাল পরিবহনে খরচও বেড়ে গেছে। তাছাড়া নদীর পানি কমে ঘাট দূরে চলে যাওয়ায় যাত্রীদের দীর্ঘ বালুচর পায়ে হেঁটে নৌকায় চড়তে হচ্ছে। যমুনা সার কারখানা থেকে নদীপথে সারসহ বিভিন্ন মালামাল পরিবহন ও যাত্রী চলাচলে ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা করছেন নৌযানের মালিক ও শ্রমিকেরা।

এনায়েতপুর ঘাট থেকে চৌহালীতে যাতায়াতকালে বেসরকারি চাকরিজীবী আরিফুল ইসলাম জানান, তারা প্রতিদিন এই নৌপথে চৌহালীর বিভিন্ন চরে যাতায়ত করে থাকেন। বর্ষাকালে যাতায়াতে সুবিধা হলেও শুষ্ক মৌসুমে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তার জানা অনেক চর আছে, যেখানে নৌকা যায় না, সেখানে পায়ে হেঁটে যেতে হয়।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কাওয়াখোলা চরের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, এই সময়ে কৃষিপণ্য পরিবহনে কষ্টের সীমা নেই। বাড়ির কাছে ঘাট না থাকায় পণ্য মাথায় করে অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়। স্থানীয় মতি সাহেবের ঘাটে আসা বেলুটিয়া চরের আব্দুল আলীম জানান, ঠিকমতো নৌকা না চলায় তাদের সকালে বাজার ধরা খুব কষ্ট হয়। জেলার মেঘাই-নাটুয়ারপাড়া নৌঘাটের ইজারাদার শামীম আহম্মেদ  বলেন, ‘১০ হাজার টাকায় মেঘাই-নাটুয়ারপাড়া ঘাটটি ইজারা নিয়েছি। যমুনা নদীতে পানি কমে যাওয়ায় তিন কিলোমিটার দূরের নাটুয়ারপাড়া ঘাটে পৌঁছাতে এখন ২২ কিলোমিটার পথ যেতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যবসায় অতিরিক্ত খরচ হলেও যাত্রী ভাড়া বাড়ানো হয়নি। তার পরেও যাত্রী ও মালামাল পরিবহন কমে গেছে। ফলে ঘাট ইজারা নিয়ে লোকশান গুনতে হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রৌমারী থেকে গোয়ালন্দ পর্যন্ত ড্রেজিং করার জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে নাব্য-সংকট থাকবে না।’